• গহীন অরণ্যে যাওয়াই কাল! সুন্দরবনে বাঘের হানায় চারদিনে ৪ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে গ্রামের মানুষ
    প্রতিদিন | ০৩ জুন ২০২৬
  • সুন্দরবনে বাঘের হানায় পরপর চারদিনে চারজনের মৃত্যু হল! আর এই নিয়েই সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মাছ-কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া বাসিন্দারা এখন থেকে আগামী কয়েক দিন কি বনের ভিতর ঢুকবেন? সেই চর্চা চলছে। বনদপ্তরও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। গত চারদিনে চারজন মানুষ সুন্দরবনে বাঘের হানায় মারা গেলেন বলে খবর। একজন ব্যক্তি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মৃত ব্যক্তির নাম রমাপ্রসাদ বাঘানি। তিনি দেউলবাড়ি, কুলতলির বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দোবাঁকি খালের কাছে মাছ ধরছিলেন। সেসময় বাঘ তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাঁকে নিয়ে বনের মধ্যে ঢুকে যায়।

    সঙ্গীরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকমে রাতে গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। আজ, বুধবার বনকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য জঙ্গলে গিয়েছেন। এর আগে তিনদিন বাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৩ মৎস্যজীবীর। বাঘের হানায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও একজন। একজন মৎস্যজীবীর দেহ বাঘে টেনে নিয়ে গেলেও অন্য একজন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় বাঘের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে আরও এক মৎস্যজীবীকে। পরের পর বাঘের হানাদারির ঘটনায় উদ্বিগ্ন মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা। 

    প্রথম ঘটনাটি ঘটে রবিবার। রবিবার বাঘের আক্রমণে নিহত হন গোপাল চক্রবর্তী নামে এক মধু সংগ্রহকারী। তাঁর বাড়ি বাড়ি কুলতলির দেউলবাড়ি এলাকায়। চার জনের মধু সংগ্রহকারীদের একটি দল সুন্দরবনের হলদিবাড়ি জঙ্গলে গিয়েছিল মধু সংগ্রহ করতে। সেখানেই সঙ্গীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোপালকে গভীর জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় বাঘ। এখনও পর্যন্ত তাঁর দেহ উদ্ধার হয়নি। গোপালের সঙ্গী বাবলু চক্রবর্তী জানান, “আমরা মধু ভেঙে সকালে বাড়ির দিকে আসছিলাম। সেই সময় দাদা জঙ্গলের মধ্যে প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। তারপর থেকেই আর খুঁজে পাইনি।”

    বাঘের আক্রমণের দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে সোমবার। কুলতলির বেনিফিলি জঙ্গলে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন গোষ্ঠবিহারী জানা নামে আরও এক মৎস্যজীবী। তাঁর বাড়ি কুলতলির মৈপীঠ বৈকন্ঠপুর এলাকায়। তবে, তাঁর দেহটি বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন সঙ্গীসাথিরা। এদিকে, এই দুটি খবর এলাকায় পৌঁছনোর আগেই আরও একটি বাঘের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন দেউলবাড়ি গ্রামের গোপাল নস্কর। আহত ওই মৎস্যজীবীকে তাঁর সঙ্গীরা বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। গোপাল নস্করের মাথা এবং ঘাড়ে গভীর আঘাত লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কুলতলির জামতলা হাসপাতাল, সেখান থেকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। পরপর বাঘের হানায় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের ঘটনায় বনদপ্তরও চিন্তায়। মানুষজন যাতে গভীর বনে না যান, সেই বার্তাও ফের দেওয়া শুরু হয়েছে বলে খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)