কলকাতা পুরসভায় মাসিক বৈঠক ডাকতে পারবেন চেয়ারপার্সন, নির্দেশ হাই কোর্টের
প্রতিদিন | ০৩ জুন ২০২৬
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) চেয়ারপার্সন মালা রায় মাসিক বৈঠক ডাকতে পারবেন। পুর আইন মেনেই ওই বৈঠক ডাকা যাবে। আজ, বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের পালাবদলের পরে কলকাতা পুরসভাতেও ডামাডোল দেখা দেয়। চেয়ারপার্সন পুরসভার বৈঠক ডাকলেও ঘর খোলা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পরই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই বড় নির্দেশ দিল আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায় পুর আইন মেনে মাসিক বৈঠক ডাকতে পারবে।
গত ২২ মে কলকাতা পুরসভার মাসিক বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের বৈধ রেজোলিউশনের কপি হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৯ জুনের মধ্যে ওই হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী ১৭ জুন ফের এই মামলার শুনানি। কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) ভেঙে যেতে পারে। রাজ্য রাজনীতির আবহাওয়া ও পট পরিবর্তনে সেই চর্চা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই আবহে কলকাতা হাই কোর্টের এই রায় তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যে পালাবদলের পরই বাতিল হয়েছিল মেয়র পারিষদের বৈঠক। পুরসভার মাসিক অধিবেশনও স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে কলকাতা পুরসভার সচিব বদল করেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরসভা নিয়ে একের পর কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
এরপর গত ২২ মে নজিরবিহীন ঘটনা কলকাতা পুরসভায়। পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায় বৈঠক ডেকেছিলেন। তৃণমূলের কাউন্সিলররা পুরসভা গেলেও অধিবেশন কক্ষের দরজা তালাবন্ধ থাকে। ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলররা! তৃণমূল সাংসদ তথা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় কিছু সময় অপেক্ষা করেন। এরপর বাধ্য হয়েই তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও ওই দিন কলকাতা পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “পুরসভার কালো দিন। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছি সংঘাত নয়, সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একসঙ্গে কাজ করার।” তৃণমূল কাউন্সিলররা এদিন উপস্থিত থাকার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফিরহাদ। সেই ঘটনার পরই আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল।