• সব ঠিকঠাক চলছে তো? খোঁজ নিতে স্কুলে ঢুকেই পুরনো মেজাজে কেশিয়াড়ির বিধায়ক, অবাক সকলে
    News18 বাংলা | ০৩ জুন ২০২৬
  • : উন্নয়নমূলক কাজের পরিদর্শনে বেরিয়ে হঠাৎই পুরনো মেজাজে ধরা দিলেন বিধায়ক। জনপ্রতিনিধি থেকে এক নিমেষে হয়ে উঠলেন আদ্যোপান্ত এক শিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকে। জানা গিয়েছে, এলাকায় নতুন করে তৈরি হতে চলা একটি গ্রামীণ রাস্তার সম্প্রসারণের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কেশিয়াড়ির বিধায়ক ভদ্র হেমরম। রাস্তার কাজ দেখতে দেখতেই তিনি হঠাৎ ঢুকে পড়েন জয়কৃষ্ণপুর নেহেরু বিদ্যাভবনে। এরপর সোজা চলে যান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে। পড়ুয়াদের হাতে থাকা বই নিয়ে একেবারে শিক্ষকের ভূমিকায় শুরু করেন প্রশ্নোত্তর পর্ব।

    পেশাগত জীবনে ভদ্র হেমরম দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একজন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি এলাকার মানুষের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ভোটের কাজের চাপ এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে শিক্ষকতা পেশা থেকে তাঁকে বাধ্য হয়েই কিছুটা দূরে থাকতে হয়েছে। কিন্তু নিজের ভিতরের সেই শিক্ষক সত্তাকে তিনি যে এতটুকুও ভুলে যাননি, এদিন যেন তারই প্রমাণ মিলল। শ্রেণীকক্ষে ঢুকে তিনি জানতে চান ছাত্রছাত্রীরা কতটা পড়েছে এবং কী কী বিষয়ে তাদের পাঠদান চলছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়কদের দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক কার্যকলাপে। রাজনৈতিক কথাবার্তা বা ব্যবহারেও পরিচয় পাওয়া যায় রাজনীতির। এই বিধায়ক যেন সেই স্রোতের বিরুদ্ধে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পুরনো সত্তাকেই ফিরিয়ে আনলেন তিনি।

    স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে ঘুরে ঘুরে তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। কোনও ক্লাসে গিয়ে সংস্কৃত নিয়ে প্রশ্ন করেন, আবার কোথাও বিজ্ঞানের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া কিংবা প্রাণীদের বিবরণ নিয়ে জানতে চান। পাশাপাশি বাংলা বিষয় নিয়েও খোঁজখবর নেন। বিধায়কের প্রশ্নের স্বতঃস্ফূর্ত উত্তরও দেয় বেশ কিছু পড়ুয়া। যাদের উত্তরে কিছুটা ভুল ছিল, একজন আদর্শ শিক্ষকের মতো পরম স্নেহে সেই ভুল শুধরেও দেন তিনি।

    ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে দৃশ্যতই খুশি বিধায়ক। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর শিক্ষকতা জীবন দীর্ঘ ২৭ বছরের। তাই সুযোগ পেয়ে স্কুলে এসে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর খুব ভাল লাগছে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সময় পেলেই যে তিনি তাঁর প্রিয় শিক্ষকতা পেশার স্বাদ গ্রহণ করতে চান, এদিনের ঘটনা যেন সেই বার্তাই দিয়ে গেল। বিধায়ক হওয়ার পরেও যে তিনি তাঁর শিকড়কে ভোলেননি, তা দেখে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)