রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বিরোধী দলনেতা চেয়ে বুধবার দুপুরে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে চিঠি হয়, তাতে অন্তত ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সই ছিল। তাতেই সিলমোহর দিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিলেন স্পিকার। পরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরও খুলে দেওয়া হয়।
বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব। তৃণমূূল দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে।’ পাশাপাশি ঋতব্রতের সংযোজন, ‘আমরা আপাতত ৫৮ জনের একটা টিম। পরে আরও ২ জন যোগ দিতে পারেন। আমি একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমরা চাই, উনিই আমাদের পরামর্শদাতা হোন। আমাদের পরিষদীয় দলকে পরামর্শ দিন। মার্গদর্শকের ভূমিকায় থাকুন। উনি থাকলে আমরা ভালো কাজ করতে পারব। অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্তে কোনও সম্পর্ক নেই।’
ঋতব্রত আরও বলেন, ‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি বস নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেব আমরা।’
বিধানসভায় জাল সই বিতর্কে দু’দিন আগেই ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ ছিল। ঘটনাচক্রে, সেই ঋতব্রত এবং সন্দীপনের নেতৃত্বে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রাহ্য’ করলেন। মমতা বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে। শুধু তা-ই নয়, স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী বিধায়কেরা যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেখানে মমতার নামও দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরের বিন্যাস কী হতে চলেছে, তা নিয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিদ্রোহীদের অন্যতম শিউলি সাহা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের দলনেত্রী। তাঁরই সৈনিক ছিলাম, আছি এবং থাকব। কিন্তু দলটা যখন অন্য কেউ দখল করে নেয়, সেটা তো মেনে নেব না। আমরা দলে একটা সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইছিলাম।’