ঐতিহাসিক সাফল্য: আয়ের নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেনের
eTV Bharat | ০৩ জুন ২০২৬
কার্শিয়াং, 3 জুন: পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে টয়ট্রেনের বাঁশি আজও পর্যটকদের হৃদয়ে শিহরণ জাগায়, আর সেই জনপ্রিয়তাই নতুন করে আয়ের শিখরে পৌঁছে দিল বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)-কে । চলতি বছরের মে মাসে আয়ের নিরিখে ডিএইচআর অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে । রেল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে 2026-এ ডিএইচআর-এর আয় হয়েছে 395.60 লক্ষ টাকা, যা এই ঐতিহাসিক রেলওয়ের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের নজির ।
এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি ছিল মে 2025-এর, যা ছিল 358.60 লক্ষ টাকা । অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ আয় বৃদ্ধি করেছে প্রায় 37 লক্ষ টাকা । ভরা পর্যটন মরশুমের সময়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ঢল এবং ডিএইচআর -এর বিশেষ জয়রাইডগুলোর চাহিদাই এই সাফল্যের মূল কারিগর । বিশেষ করে মে মাসে পর্যটকদের রেকর্ড ভিড় আয়ের এই পাহাড়প্রমাণ সাফল্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে ।
ডিএইচআর-এর বাণিজ্যিক সাফল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয় । নীচে বিগত পাঁচ বছরের মে ও জুন মাসের আয়ের তুলনামূলক ছক তুলে ধরা হল:
2022 সালের আয় মে মাসে 319.64 লক্ষ টাকা ও জুন মাসে 274.26 লক্ষ টাকা
2023 সালের আয় মে মাসে 358.18 লক্ষ টাকা ও জুন মাসে 327.61 লক্ষ টাকা
2024 সালের আয় মে মাসে 288.58 লক্ষ টাকা ও জুন মাসে 300.84 লক্ষ টাকা
2025 সালের আয় মে মাসে 358.60 লক্ষ টাকা ও জুন মাসে 325.73 লক্ষ টাকা
2026 সালের আয় মে মাসে 395.60 লক্ষ টাকা ও জুন মাসে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা 370.00 লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে
পরিসংখ্যান বলছে, 2022 সালের তুলনায় 2026 সালে মে মাসের আয় প্রায় 76 লক্ষ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে । মাঝে 2024 সালে আয় কিছুটা কমলেও (288.58 লক্ষ টাকা), 2025 এবং 2026 সালে তা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে । গত পাঁচ বছরের ট্রেন্ড লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই জুন মাসের তুলনায় মে মাসে আয় বেশি হওয়ার প্রবণতা থাকে । তবে চলতি বছরের মে মাসের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর জুন মাস নিয়েও রেল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আশাবাদী ।
পর্যটকদের বর্তমান উৎসাহ এবং বুকিংয়ের হার অপরিবর্তিত থাকলে জুন 2026-এ আয় 370 লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে । যদি এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তবে তা গত পাঁচ বছরের মধ্যে জুন মাসের সর্বোচ্চ আয় হিসেবে গণ্য হবে ।
ডিএইচআর-এর এই সাফল্যের ধারা পাহাড়ের সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে । টয়ট্রেন যে কেবল ঐতিহ্যের ধারক নয়, বরং অর্থনৈতিক সাফল্যেরও একটি বড় চালিকাশক্তি, এই পরিসংখ্যান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ । এই বিষয়ে ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, "এই আয়ের রেকর্ডে আমরা উচ্ছ্বসিত । আগামীতে আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছি । যাত্রীদের আকর্ষণ বাড়াতে নতুন পরিষেবা ও হেরিটেজ টয়ট্রেনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে ।"