মেয়র পদ ছাড়তে চেয়ে মমতার কাছে আর্জি ফিরহাদের, সুপ্রিমোর সম্মতির দাবি কুণালের
eTV Bharat | ০৩ জুন ২০২৬
কলকাতা, 3 জুন: মঙ্গলবারই কলকাতা কর্পোরেশনের নিকাশি বিভাগ থেকে ইস্তফা দেন মেয়র পারিষদ সদস্য তারক সিং। আজ, বুধবার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে তুমুল জল্পনা শুরু হয় ৷ তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুমতি নিয়েই ফিরহাদ এই সিদ্ধান্ত নেবেন ।
কলকাতা কর্পোরেশন থেকে বেরোনোর সময় মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, "আমি এখনও পর্যন্ত ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে কোনওরকম সিদ্ধান্ত নিইনি বা দিইনি । যদি এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে সাংবাদিক সম্মেলন করেই তা জানাব । এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে পদত্যাগ আমি করব না ।"
এদিন নবান্নে রিভিউ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে অশোক দেব ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় । তৃণমূল বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যাঁদের দেখা যায়নি, তাঁরাও নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে এসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, গতকাল ধর্না অবস্থানে পর্যন্ত যাঁদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছিল তাঁরাও কি ভাঙনের আবহে নিজেদের রাজনৈতিক অভিমুখ বদলে ফেলেছেন রাতারাতি ? এই জল্পনার জল বেশি দূর গড়ানোর আগেই চাঞ্চল্য় ছড়ায় নতুন এক খবরে ৷ শোনা যায়, কলকাতার মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও এক সৈনিক ফিরহাদ হাকিম !
তবে ফিরহাদের ইস্তফা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, "উনি বেশ কয়েকদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার কেএমসি থেকে পদত্যাগ করতে চেয়ে অনুমতি চাইছিলেন । কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছিলেন না যে, মেয়র পদ থেকে উনি পদত্যাগ করুন । অবশেষে আজ দলের তরফ থেকে সেই ইচ্ছায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । তবে তার মানে এটা নয় যে ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেছেন যে তিনি মেয়র পদ ছাড়ছেন । দল বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমের এই আবেদনের সাড়া দিয়ে তাঁর দাবি মেনে নিয়েছে ৷"
2018 সালের নভেম্বরে রাজ্যের তৎকালীন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রথমবার কলকাতার মেয়র হন । এরপর 2021 সালে দ্বিতীয়বার মেয়রের পদে বসেন কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা কলকাতার 82 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরহাদ ।
বুধবার তৃণমূলের তরফে তাদের সংগঠনের সমস্ত কমিটিকে ভেঙে দেওয়া হয় ৷ এদিন বিধানসভায় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 59 জন বিধায়ক পৃথকভাবে বিরোধীদল হিসাবে নিজেদের তুলে ধরেন ৷ তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেই বেছে নিয়েছেন বিদ্রোহী বিধায়করা ৷ অঙ্কের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হতে গেলে 30 জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন ৷ এক্ষেত্রে ঋতব্রতর পক্ষে রয়েছেন 58 জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক ৷ তাই ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ৷ মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ ইস্তফা দিলে রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হবে ৷