• পয়লা বৈশাখের বদলে এই দিনই হবে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস', বড় ঘোষণা নবান্নের
    eTV Bharat | ০৩ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 3 জুন: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার । পূর্বতন সরকারের ঠিক করা 'পয়লা বৈশাখ'-এর পরিবর্তে এবার থেকে 20 জুন তারিখেই সরকারিভাবে পালিত হবে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস'। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ । নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।

    রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক তরজা দেখেছে বাংলা । বিরোধী আসনে থাকাকালীন প্রথম থেকেই 20 জুন তারিখটিকে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিজেপি । এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। 1947 সালের 20 জুন তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি করেছিলেন । জানা যায়, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেদিনের অধিকাংশ হিন্দু বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গের জন্মের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন ।

    বুধবার নবান্ন থেকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, ওই দিনটিতেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল । আর সেই ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে মান্যতা দিয়েই এবার থেকে 20 জুন তারিখটিকে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' বা রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার ।প্রসঙ্গত, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই তারিখটির তীব্র বিরোধিতা করেছিল । বিগত সরকারের দাবি ছিল, বাংলা ভাগের এই দিনটি দেশভাগের এক যন্ত্রণাদায়ক ও নেতিবাচক ইতিহাসের সাক্ষী । তাই এই দিনটির বদলে বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িত 1 বৈশাখ বা 'পয়লা বৈশাখ' দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘটা করে পালন করত তারা ।

    এই দিবস পালন ঘিরে পূর্বতন রাজ্য সরকারের সঙ্গে তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সংঘাতও একসময় চরমে উঠেছিল । সিভি আনন্দ বোস রাজ্যপাল থাকাকালীন রাজভবনে নিজের উদ্যোগে 20 জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন শুরু করেছিলেন । এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজভবনকে কড়া চিঠি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, "আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি 20 জুন রাজভবনে 'পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস'-এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।" তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পালটে গেল সেই রাজনৈতিক সমীকরণ । পূর্বতন সরকারের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে নিজেদের বহু প্রতীক্ষিত দাবিকেই সিলমোহর দিল নতুন সরকার।

    এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবস সংক্রান্ত ঘোষণার পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠক থেকে জনকল্যাণমুখী আরও বেশ কিছু প্রকল্পের কথা জানিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা । মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, বুধবার থেকেই রাজ্যে মহিলাদের জন্য 'অন্নপূর্ণা যোজনা' প্রকল্পের অধীনে অর্থদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল । শুধু তাই নয়, মহিলাদের সুবিধার্থে সরকারি বাসে স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সিদ্ধান্তের কথাও এদিন ফের তুলে ধরা হয় নবান্নের তরফে । এর পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিতেও রাজ্য জোর দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে । রাজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে খবর দেওয়া হয়েছে নবান্ন থেকে । সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম একমাসের মধ্যেই পূর্বতন সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত বদলে নিজেদের নীতি ও সামাজিক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার পথেই হাঁটল বর্তমান প্রশাসন ।

    একইসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন জানিয়েছেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 150 বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সরকার বছরভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা পালন করবে । আইএনসিএ দফতর এই উদযাপনের দায়িত্বে থাকবে । মন্ত্রী জানিয়েছেন এই উপলক্ষে আগামী 5 জুলাই থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে । 6 জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে থাকছে বিশেষ অনুষ্ঠান । রাজ্য সরকারের তরফ থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বড় একটি মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই মূর্তি কোথায় বসানো হবে তার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে । একসঙ্গে এই উদযাপনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যে কমিটিতে 10 জন সদস্য থাকবেন । যার মধ্যে থাকবেন বিধায়ক, মন্ত্রী ও অন্যান্য আধিকারিকরাও ।
  • Link to this news (eTV Bharat)