মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এর বিডিও শানু বক্সীকে বদলি করল নবান্ন। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট গেজেটার্সের ওএসডি (অফিসার অফ স্পেশাল ডিউটি) করে পাঠানো হয়েছে। শানুর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অভিযোগ ওঠার কারণেই বদলি করা হলো বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে এটাকে রুটিন বদলি বলেই জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক ও কর্মী বর্গ দপ্তর। শানুর সঙ্গে আরও তিন অফিসারকে বদলি করা হয়েছে বুধবার।
নবান্নের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এর বিডিও শানু বক্সীকে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট গেজেটার্সের ওএসডি (অফিসার অফ স্পেশাল ডিউটি) পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পি অ্যান্ড এআর ডিপার্টমেন্টের ওএসডি ধ্রুবাশিস সামন্তকে। পাশাপাশি নদিয়ার কৃষ্ণনগর ১-এর বিডিও রঞ্জন সর্দারকেও পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট গেজেটার্সের ওএসডি পদে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে পি অ্যান্ড এআর ডিপার্টমেন্টের ওএসডি গার্গি দাসকে। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে শানুকে নিয়েই।
২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে ফলতার বিডিও হন শানু বক্সীকে। অভিযোগ, সেই সময়েই তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ হয় তাঁর। শানুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করার অভিযোগও উঠেছিল একাধিকবার। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শানু নিজে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে বদলি করে দেয় নির্বাচন কমিশন। পাঠানো হয় হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এ বিডিও করে।
শুধু তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নয়। শানুর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফলতা থাকাকালীনই নম্বর বাড়িয়ে তাঁকে বিডিও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘সাদা খাতার বিডিও।’ আবার শানুর বিপুল সম্পত্তি থাকার অভিযোগ করেছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘জলপাইগুড়ি সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে জমি কিনেছেন শানু।’ বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে শানুর দহরম মহরম ছিল বলেও এক সময়ে সরব হয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। অবশ্য সব অভিযোগই জোর গলায় অস্বীকার করেছেন শানু।