• প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
    এই সময় | ০৪ জুন ২০২৬
  • Big Breaking: স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের মামলায় দশ দিনের মধ্যে ‘পলাতক’ বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তার করতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ হাইকোর্টের। একইসঙ্গে ওই খুনের মামলার তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপেরও নির্দেশ।

    স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে গত বছর কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে জামিন খারিজ হয়ে যায়। তার পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে একই আবেদন করেছিলেন প্রশান্ত। কিন্তু সেখানেও খারিজ হয়ে যায় আবেদন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমপর্ণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারপরেও প্রশান্ত বর্মন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হননি। এরই মধ্যে সম্প্রতি নিউ টাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত বর্মন। কিন্তু আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান তিনি। তার আগে দোকান-বাজারেও দেখা গিয়েছে প্রশান্তকে।

    অন্য এক ধৃতের জামিনের মামলার শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় ওই বিডিও–র বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ওই মামলার তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে নির্দেশ কার্যকরের রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা সজল সরকার। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ দিতে গিয়ে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন নিয়ে এই মন্তব্য করে হাইকোর্ট। চরম ভৎর্সনা করে রাজ্য পুলিশকেও। বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে ওই জামিনের মামলা ওঠে। তার পরেই বিচারপতি সিনহা রায়ের প্রশ্ন, এ কি সেই বিডিও? যে অভিযুক্তের জামিন হাইকোর্ট খারিজ করেছে, সুপ্রিম কোর্ট যার জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে, তিনি কি করে এখনও বাইরে? কেন এতদিনেও পুলিশ কিছু করেনি? চার্জশিটে তাঁর নাম নেই কেন? আদালতের বক্তব্য, তদন্তকারী অফিসার শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্ত বিডিও–র ব্যাপারে কৌশলে চার্জশিটে নাম উল্লেখ করেছেন। শেষে তাঁকে পলাতক দেখিয়েছেন। তার তদন্তে অনেক ত্রুটি আছে।

    এদিন জামিন মামলার শুনানিতে ধৃতের তরফে আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে এখনও পুলিশ ধরেনি। এমনকি তাঁর নামও চার্জশিটে রাখা হয়নি।

    মূল অভিযুক্ত বিডিও গোটা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উত্তরবঙ্গে বিঘের পর বিঘে জমি কিনে তিনি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করাচ্ছেন সরকারি অফিসে গিয়ে। অথচ পুলিশ তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না, অভিযোগ এমনই। তখনই আদালত প্রশ্ন করে, খুনের মামলায় অভিযুক্ত কী ভাবে রেজিষ্ট্রি করে জমি কেনেন? সরকারি কৌঁসুলি আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, চার্জশিটে তাঁর নাম থাকলেও তিনি যেহেতু পলাতক, তাই ভবিষ্যতে তাঁর জন্য পৃথক চার্জশিট দেওয়া হবে।

    রাজ্যের এই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে যে তদন্তে বিস্তর ফাঁকফোকর রয়েছে। আদালতের বক্তব্য, তদন্তকারী অফিসার যা করেছেন তা হতাশাজনক। এরপরেই আদালত ধৃত তৃণমূল নেতার জামিনের আবেদন খারিজ করে, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পদক্ষেপ করে হাইকোর্টের কাছে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। দিনের শেষে রাজ্যের তরফে এক আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করে, এই মামলায় কোনও কড়া নির্দেশ না দিতে। যদিও আদালত সেই আবেদনও খারিজ করে দেয়।

  • Link to this news (এই সময়)