জাল আধার বানিয়ে কোটি টাকার কারবারের অভিযোগ! মালদহে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ ৩
News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
জাল আধার কার্ড তৈরির একটি বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি)-এ কর্মরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ মোট তিনজনকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শরণপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই এলাকার বাসিন্দা তথা আইবি বিভাগে কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার ওমর ফারুকের বাড়ি থেকে জাল আধার কার্ড তৈরির একটি চক্রের হদিস মেলে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ওমর ফারুককে। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে বিহারের আমদাবাদ এলাকার বাসিন্দা রাজু কুমার শর্মা এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের বারদুয়ারী এলাকার বাসিন্দা অঙ্কিত কুমার শর্মাকে। পুলিশ দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি সক্রিয় ছিল এবং সংগঠিতভাবে জাল আধার কার্ড তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ আধার কার্ড, আধার তৈরির বিভিন্ন নথিপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, জাল আধার কার্ড তৈরি করে তা বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হত। এমনকি বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই চক্রের ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত রাজু কুমার শর্মার নামে থাকা একটি অনুমোদিত আইডি ব্যবহার করেই আধার কার্ড তৈরির কাজ চলছিল। কী ভাবে ওই আইডি তার হাতে এল এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত তিনজনকে বুধবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হবে। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল, তা জানতে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার ওমর ফারুকের স্ত্রী স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্যা বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। জাল পরিচয়পত্র তৈরির এই চক্রের সঙ্গে বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।