শান্তিপুর থেকে কালনা সেতু, একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিধায়কের
News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
অবশেষে কাটতে চলেছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা। শুধু মুখের কথা বা প্রতিশ্রুতির চাদরে ঢাকা নয়, এবার বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে শান্তিপুর-কালনা ব্রিজ। শান্তিপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাসের বক্তব্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যেখানে কেবল এই ব্রিজের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা নিশ্চিত করাই নয়, রাজ্য সরকারের সেচ ও পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে সরাসরি চায়ের দোকানে বসে এলাকার একগুচ্ছ বকেয়া উন্নয়ন প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত করার দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গঙ্গাবক্ষে ভাঙন প্রতিরোধ ও জমি কেনায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিধায়ক।
বিধায়কের দাবি, গঙ্গা ও সুরধনী নদীকে কেবল ভাঙনের হাত থেকে বাঁচানোই নয়, নদীকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে তার পুরনো গতিপথ ফিরিয়ে দেওয়াই আসল লক্ষ্য। বেনারস বা উত্তরপ্রদেশের মডেলে যেভাবে গঙ্গার পাড় বাঁধানো হয়েছে, ঠিক সেইভাবেই স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আর যে কাজই হবে, তা হবে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে। “আমার বিধানসভার মানুষকে ১০০% আশ্বস্ত করে বলতে পারি, শান্তিপুর-কালনা ব্রিজ হচ্ছেই। এই প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হল।” এমনটাই জানান শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন দাস।
জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ইতিমধ্যেই মোট ২১ দফা দাবির একটি তালিকা তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিধায়ক জানান। সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্য সরকার— ত্রিস্তরীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলি দ্রুত শেষ করতে চান তিনি।
পাশাপাশি, শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। বিধায়ক জানান, এই অঞ্চলের তাঁত শিল্পের কথা মাথায় রেখে এলাকার সম্মানীয় সাংসদ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শান্তিপুরে একটি উন্নত ক্লাস্টার এবং আধুনিক তাঁত শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যাপারে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে উদ্যোগী হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে শান্তিপুরকে উন্নয়নের মানচিত্রে একেবারে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর স্থানীয় নেতৃত্ব।