দিল্লিতে শুভেন্দু-ঋতব্রতর কাকতালীয় মোলাকাত... বদলে গেল তৃণমূলের 'ঋতু'
আজ তক | ০৪ জুন ২০২৬
রাজনীতিতে কি কাকতালীয় ঘটনা ঘটে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে বলতেই হবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ যা ঘটল তা কাকতালীয়। এর সূত্রপাত গত ৪ মে'র বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর। ২২ মে দিল্লির বঙ্গভবনে মিলিত হন শুভেন্দু অধিকারী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আর সেই সাক্ষাতের পরই আজ ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়ে যান উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মানলেও কার্যত দলটাকেই হাইজ্যাক করে নিয়েছেন। নিজের উদ্যোগে পরিষদীয় দলও গঠন করে ফেলেছেন। ফলস্বরূপ তাঁর হাতে বিরোধী নেতার ঘরের চাবিও তুলে দিয়েছেন স্পিকার।
কালতালীয় সাক্ষাৎ
ছাব্বিশের ভোটে হারার পরই রাতারাতি সঙ্কটে পড়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী নিজে পরাজয় স্বীকার না করলেও দলের অন্দরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। তাঁর ডাকা বৈঠকে গরহাজির হতে শুরু করেন বিধায়করা। ক্রমাগত উপস্থিত না থাকার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমনকী সাংসদ, কাউন্সিলররাও বৈঠকে আসা কমিয়ে দেন।
এরইমধ্যে মাঠে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে চোর চোর স্লোগান উঠছিল। রাস্তাঘাটেও তাঁকে লক্ষ্য করে অকথা কুকথা ধেয়ে আসতে থাকে। নেতাদেরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছিল। সেই সময় দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের পাশে থাকা তো দূরের কথা, নেতারা বরং দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ২২ মে প্রথমবার দিল্লি যান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার আগে, তিনি দিল্লিতে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবনে যান, যেখানে বিধায়ক ও কর্মকর্তারা প্রায় যাওয়া আশা করে থাকেন। সেখানেই সেই কাকতালীয় ঘটনাটি ঘটে। যার প্রভাব দেখা গেল বাংলার রাজনীতিতে।
সেদিন বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, সেটিও জানিয়েছিলেন ঋতব্রত। বলেছিলেন, 'আমি যখন সেখানে ছিলাম, হঠাৎ একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, আপনি কি বঙ্গভবনে থাকছেন, বিধায়ক স্যার? এরকম কেউ একজন বললেন। আমি তাকিয়ে দেখি, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে আছেন। তিনি আমাকে অভিবাদন জানালেন, এবং আমি তার উত্তর দিলাম। তখন আমি বললাম, না, দাদা, আমি আমার বাংলো খালি করতে এবং বাকি সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এসেছি। তখন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, আমি বিরোধী দলের সমস্ত বিধায়কদেরও প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য ডাকছি, এবং আপনারও সেই বৈঠকে আসা উচিত। তখন আমি উত্তর দিলাম, আমি অবশ্যই আসব। আমাদের মধ্যে ৪০ সেকেন্ডের কথা হয়েছিল। এরপর থেকে লোকজন বলছে যে আমি নাকি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। কিন্তু সেটা সত্যি নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিধানসভার নেতা। তিনি যদি আমাকে অভিবাদন জানান, আমি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে পারি না।'
এদিকে দিল্লিতে সেই বৈঠকের পরই ঋতব্রতর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তা অস্বীকার করেছিলেন। তবে তার কয়েক দিন পরই ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতা হয়ে গেলেন। আর এটাও প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে এই ধরনের 'সংযোগ' কখনই কৌশল ছাড়া ঘটে না।