• গরম-দূষণের জোড়া থাবা! শহরের বিপদ মাপতে যুগান্তকারী সূচক আবিষ্কার আইআইটি খড়গপুরের
    News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
  • : শহরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাঁসফাঁস করা গরম এবং বিপজ্জনক বায়ুদূষণ। বিভিন্ন কলকারখানা থেকে বেরোনো ধোঁয়া বিপদ বাড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, দিল্লি, কলকাতা এমনকি খড়গপুরের মতো শহরেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দূষণের পরিমাণ। এতদিন এই দুই বিপদকে আলাদাভাবে মাপা হলেও, এবার এদের সম্মিলিত প্রভাব মাপতে একটি যুগান্তকারী সূচক বা ইনডেক্স তৈরি করলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) খড়গপুর-এর গবেষকরা। ‘আরবান পলিউশন-হিট ইনডেক্স’ বা ইউএইচপিআই নামের এই নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি আগামীর জলবায়ু-বান্ধব এবং সুরক্ষিত শহর গড়তে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    খড়গপুর আইআইটি-র সেন্টার ফর ওশান, রিভার, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্স (কোরাল)-এর অধ্যাপক জয়নরায়ণ কুট্টিপ্পুরাথ এবং গবেষক ভি. কে. প্যাটেলের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ‘কেস স্টাডিজ ইন কেমিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক একটি বিজ্ঞান পত্রিকায় এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষকরা জানাচ্ছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহরে তাপপ্রবাহ এবং দূষণের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই দুই সমস্যাকে আলাদাভাবে মাপা হয়, কিন্তু বাস্তবে এদের মিলিত প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। এই প্রথমবার ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা শহুরে তাপ দ্বীপের প্রভাব এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে একসঙ্গে জুড়ে এই নতুন সূচকটি তৈরি করা হয়েছে।

    এই গবেষণায় উদাহরণ হিসেবে রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সমীক্ষায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, মধ্য, পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লির মতো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে এই নতুন সূচকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, ওইসব এলাকায় পরিবেশের চাপ এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকি চরম। অন্যদিকে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির মতো তুলনামূলকভাবে সবুজ এবং কম জনবহুল এলাকায় এর মাত্রা অনেকটাই কম, যা ভবিষ্যতের সুস্থায়ী নগরোন্নয়নের জন্য একটি ভাল দিক।

    ভবিষ্যতের শহরগুলিকে এই জোড়া বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। এর মধ্যে রয়েছে বেশি করে গাছ লাগান বা সবুজ পরিকাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ান, কলকারখানা ও যানবাহনের দূষণ কমান এবং শহরের মধ্যে বায়ু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করিডোর তৈরি করা। গবেষকদের বক্তব্য, নগর পরিকল্পনার সময় শুধুমাত্র দূষণ বা শুধুমাত্র তাপমাত্রার কথা ভাবলে চলবে না, দুটির মিলিত প্রভাবকে মাথায় রেখেই নীতিনির্ধারণ করতে হবে। সারা বিশ্বের পরিবেশ দফতর এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের কাছে এই নতুন সূচকটি আগামী দিনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)