‘অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্ক নেই’, নেত্রী মমতাকে ‘পরামর্শদাতা’ হিসাবে চাইছে ঋতব্রতর নতুন তৃণমূল
প্রতিদিন | ০৪ জুন ২০২৬
“আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরামর্শে আমরা প্রধান বিরোধী দল হিসাবে কাজ করতে চাই।” বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূলে’র বিধায়করা বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার পর এমনটাই জানালেন রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার আবেদন জানিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) বললেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘দূর-দূরান্ত’ পর্যন্ত এই বিধানসভার কোনও সম্পর্ক নেই।”
তৃণমূল কংগ্রেসে আজ যে ‘মহাবিদ্রোহ’, তার সলতে পাকানো শুরু দিন কয়েক আগে। নির্বাচনে হারের পর পরিষদীয় দলের নেতা বাছাই ও সই-জালিয়াতি কাণ্ডকে সামনে রেখে এই প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়। এ দিন বুধবার তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে চিঠি দেয়। ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়। তবে প্রশ্ন ওঠে তাহলে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী হবে?
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত-সহ ‘নব্য তৃণমূলে’র পরিষদীয় দলের নেতারা জানালেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মেন্টরশিপে’ অর্থাৎ পরামর্শে কাজ করবেন। তাঁকে নেত্রী মানছেন ‘বিদ্রোহী’রা। তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নেওয়া হল। মমতার ক্যাবিনেটের প্রাক্তন মন্ত্রী রঘুনাথগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক তথা নতুন পরিষদীয় দলের চিফ হুইপ আখিরুজ্জামান এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “এখানে আমরা সকলে তৃণমূলের বিধায়ক। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও সংশয় নেই।”
যদি তাই হয়, তাহলে আজকে এই পরিস্থিতি কেন? বিধায়ক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ২ বার ডাকার পর আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সঠিক ভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হয়নি। বাজারে প্রশ্ন ওঠে তৃণমূল পরিষদীয় রীতিনীতি জানে না। এতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম দলের মুখ পুড়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা এগিয়ে এসেছি। নেত্রীর কাছে আবেদন এই পরিষদীয় দলকে মান্যতা দিয়ে, তিনি আমাদের পরিচালনা করুন।” এরপরই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ তিনি আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করুন। তিনি আমাদের সঙ্গে থাকলে আমরা সফলভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারব এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
মমতাকে নেত্রী হিসাবে মেনে নিতে চাইলেও ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মান্যতা দিতে চায়নি ‘নব্য তৃণমূল’। ঋতব্রত সাফ জানিয়েছেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এই পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়ক জয়ী হয়েছেন। আপাতত ৬০ জন বিধায়ক মনে করেছেন এটাই বিরোধী দল। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছি।” দলের অন্তর্কলহের মাঝে শাসকগোষ্ঠী বিজেপিকেও বার্তা দিয়েছে এই পরিষদীয় দল। চোখে চোখ রেখে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা হবে জানিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ নেতারা। তবে মানুষের কল্যাণে কোনও বিল আনা হলে তাঁরা সমর্থন জানাবে।