তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার তেরপেখ্যা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মহিষাদল থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি তৃণমূল নেতৃত্ব।
একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে মহিষাদল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিলক। বিপুল ভোটে জিতে বিধায়কও হন। তার পর থেকেই চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠতে শুরু করে তাঁর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে সেই সময়েও ব্যাপক শোরগোলও হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পুলিশে অভিযোগও জানানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে তিলকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বিজেপির সুভাষ চন্দ্র পাঁজার কাছে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তিনি। গোটা রাজ্যেই কার্যত ভরাডুবি হয় তৃণমূলের। সরকার গড়ে বিজেপি। পালাবদলের পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে শুরু করে নতুন রাজ্য সরকার। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সেই সব পুরোনো ফাইল খুলে শুরু হয় তদন্ত।
মহিষাদল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলকের বিরুদ্ধেও নতুন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তার পরেই এ দিন রাতে তাঁর গ্রামের বাড়ি তেরপেখ্যায় অভিযান চালান তদন্তকারীরা। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা ৪০মিনিট। আচমকাই বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলে এলাকা। সেই সময়ে নিজের বাড়িতেই ছিলেন তিলক। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এক সময়ে তিলকের সাইকেলের দোকান ছিল। এখনও মহিষাদলে সেই দোকান রয়েছে। সেখান থেকে বিধায়ক হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তিলকের উত্থান সত্যিই চোখ ধাঁধানো। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করারও অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।