এই সময়: আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া স্যাটেলাইট ইনস্যাট–থ্রিডিআরের ছবিতে ভারত মহাসাগরের উপরের দৃশ্যটা ঠিক নতুন কেনা স্লেটের মতো চকচকে কালো ও কার্যত মেঘশূন্য। যার জেরে চিন্তা বেড়েছে আবহবিদদের।
দেশে কবে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করবে এবং তার হাত ধরে বর্ষা আসবে, সে সংক্রান্ত যে পূর্বাভাস তাঁরা ২০ দিন ধরে দিচ্ছেন, সেটা মেলেনি। ২৬ মে, ২৮ মে, ১ জুন এবং ৩ জুন — মৌসম ভবনের দেওয়া সম্ভাব্য চারটি তারিখই ‘ফেল’ করেছে। কাল–পরশু নাগাদ বর্ষা প্রবেশের সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারত মহাসাগরের উপরের ওই মেঘশূন্য আকাশ।
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি (আইআইটিএম) জানাচ্ছে, বর্ষার আবহ তৈরির প্রধান উপাদান জলীয় বাষ্প উৎপাদনের এক বিশাল ‘কারখানা’ হলো ভারত মহাসাগর। গ্রীষ্মের কয়েক মাস সমুদ্রের উপরিতল ক্রমশ গরম হয়ে ওঠে, যা বৃষ্টিবাহী মেঘ ও নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরিতে সাহায্য করে। ওই মেঘই পরে উত্তরে এগিয়ে ভারতে বর্ষা নিয়ে আসে।
কিন্তু সেই ‘কারখানা’ এখন অস্বাভাবিক ভাবে নিষ্ক্রিয়। নতুন নিম্নচাপ বা বৃষ্টিবাহী সিস্টেম তৈরি না হওয়ায় সমুদ্রের উপর দিয়ে বাতাস উত্তরের দিকে এগোনোর মতো শক্তিও সঞ্চয় করতে পারছে না।
যে কারণে কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে সামান্য পরিমাণে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত হলেও এখনও কেরালায় বর্ষা ঢোকেনি। বঙ্গোপসাগরে তৈরি একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে গত সপ্তাহে বাংলা কিছুটা বৃষ্টি পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহের শেষেও কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গে কিছু ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাতে বর্ষার বৃষ্টির অভাব পূর্ণ হবে না।
মৌসম ভবন আগেই জানিয়েছে, এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিতল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম থাকায় যে ‘এল নিনিও’ পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে, তার জেরে দেশে ১০ শতাংশ কম বৃষ্টি হবে। তার উপরে দেশে বর্ষা ঢোকার নির্ধারিত তারিখ (১ জুন) পেরিয়ে যাওয়ায় অনেকেরই প্রশ্ন, বর্ষা আদৌ আসবে তো?
যদিও খড়গপুর আইআইটি–র অধ্যাপক এবং দেশের অন্যতম পরিচিত আবহবিদ অনিলকুমার গুপ্তা বলেন, ‘বর্ষা আসবে না, এই আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। ভারতের বর্ষা একটি ভৌগোলিক বিষয়। যতদিন ভারতের মূল ভূখণ্ড এখনকার মতো আছে, ততদিন মৌসুমী বায়ুর আগমন নিয়ে চিন্তা নেই।’ তিনি জানান, বৃষ্টির পরিমাণে তারতম্য হলেও গত ১ কোটি ৩০ লক্ষ বছরে একবারও বর্ষার বাতাস পুরোপুরি গায়েব হয়নি।