• বেআইনিভাবে নির্মাণ হয়েছে মালব্য নগরের হোটেলগুলি, নেই কোনো ফায়ার অডিট রিপোর্ট
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুধু একটিই নয়। দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরে ডিডিএর (দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) জায়গার উপরই বেআইনিভাবে নির্মাণ হয়েছে একের পর এক হোটেলের। তাদের প্রতিটিই বিএনবি ক্যাটিগরির হোটেল। অর্থাৎ, ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেল। থাকা এবং শুধুমাত্র প্রাতঃরাশের সুবিধা যুক্ত হোটেল। এহেন নির্মাণ কার্যে সেভাবে কোনো আইনকানুনের তোয়াক্কা করা না হলেও দিল্লি সরকার বিশেষ পদক্ষেপই করেনি। মালব্য নগরের সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, সব দেখেও কার্যত চুপ করেছিল দিল্লির পুলিস প্রশাসন। সেভাবে তদন্তও করেনি দিল্লির বিজেপি সরকার। বুধবার মালব্য নগরের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জেরে বিদেশি সহ ২১ জন আবাসিকের মৃত্যুর পর অবশ্য ঘুম ভেঙেছে সরকারের। দেশের রাজধানী শহরের সমস্ত হোটেল, হাসপাতাল, নার্সিংহোমে অগ্নি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধি ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কি না, অবিলম্বে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর। দমকল আধিকারিক অভিলাষ কুমার মালিক জানিয়েছেন, হোটেলের ঘরগুলি এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যে পুরোটাই জতুগৃহের কাজ করেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মালব্য নগরের যে হোটেলে আগুন লেগেছে, তার কোনো ফায়ার অডিট হয়নি। এসংক্রান্ত কোনো ‘নো-অবজেকশন-সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ছাড়াই হোটেলটি চলছিল। কিন্তু ওই এলাকায় আরও যেসব হোটেল গজিয়ে উঠেছে, সেগুলিতেও কি আদৌ কোনো বৈধ কাগজপত্র রয়েছে? এপ্রশ্ন উঠছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোনো হোটেল মালিকের কাছে বৈধ নথি নেই। এদিন মালব্য নগরের যেখানে হোটেলে আগুন লেগেছে, তার কয়েক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে রয়েছে অন্তত তিনটি বড়ো হাসপাতাল। এইমস, সফদরজং এবং একটি বেসরকারি হাসপাতাল। প্রধানত নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়া থেকে যাঁরা দীর্ঘসূত্রী চিকিৎসা করাতে এইসব হাসপাতালে আসেন, তাঁদের একটি বড়ো অংশই মালব্য নগরের এই এলাকায় সস্তায় থাকার জায়গা খোঁজেন। জানা যাচ্ছে, মালব্য নগরের যে হোটেলে আগুন লেগেছে, তার নিকটবর্তী একটি জায়গা হল হজ রানি ভিলেজ। এমন আরও ছোটো ছোটো কিছু জনবসতি আছে। সেইসব জনবসতিতে দৈনিক এক হাজার থেকে সাড়ে তিন কিংবা চার হাজার টাকায় ঘর ভাড়া দেন বাসিন্দাদের একটি অংশ। চিকিৎসা করাতে আসা বিদেশিরা প্রধানত ওইসব ঘরই ভাড়া নেন। এই ব্যবসা লাভজনক তা বুঝতে পেরেই ধীরে ধীরে এলাকায় গজিয়ে উঠতে থাকে একের পর এক ‘বেআইনি’ হোটেল। সেগুলির মধ্যে অন্যতম বুধবারের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া হোটেলটি। দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জমিতে কীভাবে এত হোটেল তৈরি হতে পারে, সেটি বিস্ময়ের। আরও আশ্চর্যের হল, এসংক্রান্ত বিশেষ কোনো তথ্যই নাকি নেই দিল্লি পুলিশের কাছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গজিয়ে ওঠা হোটেলের জন্য চলাফেরা করাই দায় হয়ে উঠেছে। কারণ হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ‘প্ল্যানিং’ না থাকায় গলিপথ একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে। এদিন অকুস্থলে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষদর্শী পাপ্পু গৌতম বলছিলেন, ‘গলিতে এত গাড়ি এবং বাইক দাঁড়িয়েছিল, দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতেই পারছিল না।’ এমন অপরিণামদর্শিতার ফল ভুগতে হচ্ছে নমিত গোয়েল কিংবা বিবেককে। গুরুগ্রামের বাসিন্দা নমিতের পরিবারের ছ’জন সদস্যর খোঁজ মিলছে না হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে। বিবেক খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁর বান্ধবী সুজাতাকে। শুধু ছবি দেখে শনাক্ত করা একপ্রকার অসম্ভব। কারণ আগুনে সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছে দেহগুলি। দায় কার?
  • Link to this news (বর্তমান)