বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক হঠাৎই অন্যত্র সরালেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা
বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
জম্মু ও শ্রীনগর: বিভিন্ন ইস্যুতে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) দলীয় বিধায়কদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে। প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও দেখা গিয়েছে কয়েকজনকে। অসন্তুষ্ট এনসি সরকারকে সমর্থনকারী নির্দল বিধায়করা। দলে কোন্দলের জেরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণও ঝুলে। এই অবস্থায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার বাসভবনে সাংসদ ও বিধায়কদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই সেই বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে জনপ্রতিনিধিদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। তাহলে কি ক্ষোভ-বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে সরকার ফেলার চেষ্টা করছে বিরোধী দল বিজেপি? সেখানেও চলছে ‘অপারেশন লোটাসে’র তোড়জোড়? বিজেপি প্রকাশ্যে সেসব অস্বীকার করলেও জল্পনা তুঙ্গে।
জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল শ্রীনগরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার গুপকারের বাসভবনে। বুধবার সকালে সেখানে পৌঁছে যান ক্ষমতাশীন দল এনসির সাংসদ-বিধায়ক ও সরকারকে সমর্থনকারী চার নির্দল বিধায়ক। যদিও আচমকাই সেখান থেকে তাঁদের নিয়ে বিশাল কনভয় রওনা হয় শ্রীনগরের উপকণ্ঠে দাচিগাঁও ন্যাশনাল পার্কের উদ্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের পরিবর্তে পরে সেখানেই হয় বৈঠক। মাঝপথে সামনে আসে এনসি বিধায়ক বসির আহমেদ ভেরির একটি পোস্ট। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘শালিমার ছাড়িয়ে অজানা গন্তব্যের দিকে এগচ্ছি।’ ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা। তাহলে কি ‘অপারেশন লোটাসে’র আশঙ্কায় ক্ষমতাসীন শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের দুম করে অন্যত্র সরানোর বন্দোবস্ত? বিজেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ফেলে দিয়ে নতুন সরকার গড়ার কোনো উদ্দেশ্য বিজেপির নেই। তবে একথা বলতে পারি, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার এই সরকার নিজে থেকেই ভেঙে পড়বে।’ সরকারের উপর বিপদের আশঙ্কা নিয়ে গুঞ্জন চলার মধ্যেই অবশ্য প্রকাশ্যে সেসব নাকচের চেষ্টা চালান ওমর আবদুল্লাও। এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থানান্তরিত করা হয়নি। প্রথম থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল একটু দূরে কোথাও এই বৈঠক করব। আমার পছন্দ করে দেওয়া জায়গাতেই বৈঠক হচ্ছে। সেজন্য বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সেখানে সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ তবে সরকারের বিপদের আশঙ্কা খারিজের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এসব বললেও জল্পনা থামছে না। কারণ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে এনসি বিধায়ক বসির আহমেদ ভেরি ও সাবির আহমেদ কুলে এবং নির্দল বিধায়ক মুজাফ্ফর ইকবাল খানকে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া থেকে নির্বাচিত বিধায়কদের দূরে রাখা ও সংরক্ষণ নীতির সংস্কারের ইস্যুতে সরব হয়েছেন তাঁরা। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও আরও বহু বিধায়কই ক্ষুব্ধ বলে সূত্রের খবর। বিধায়কদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ নিরসনেই মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক ডেকেছিলেন।