জলপাইগুড়ি পুরসভা: খরচ দেড় কোটি, আয় মাত্র ২৪ লক্ষ! বেতন, পিএফ, পেনশন দিতে হিমশিম
বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রতিমাসে খরচ প্রায় দেড় কোটি টাকা। অথচ তলানিতে ঠেকেছে নিজস্ব আয়। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা চালাতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খাচ্ছে তৃণমূল বোর্ড। তিনশোর বেশি অস্থায়ী কর্মীর বেতন, পিএফ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের টাকা জোগাড়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষকে। ফলে এই পরিস্থিতিতে কতদিন পুরসভা চালানো সম্ভব তা নিয়ে সংশয়ে বর্তমান বোর্ডের একাংশের কাউন্সিলার।
সূত্রের খবর, খরচ বহনে অনেক আগেই হাত পড়েছে আমানতে। প্রতিমাসেই ফাঁকা হচ্ছে ব্যাংকের সঞ্চয়। মাসে খরচ যেখানে প্রায় দেড় কোটি, সেখানে এপ্রিল মাসে পুরসভার নগদ আয় মাত্র ২৪ লক্ষ টাকা। চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভায় সবটা মিলিয়ে মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ। বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এপ্রিলে আমাদের আয় কম হয়েছে। ওই মাসে আমাদের হাতে নগদ এসেছে ২৪ লক্ষ টাকা। তবে ট্রেড লাইসেন্স, বিল্ডিং প্ল্যান সহ আরও কিছুক্ষেত্রে অনলাইনে ব্যাংকে টাকা জমা হয়। আয়ের তুলনায় খরচ যা তাতে অনেকটাই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
পুরসভার স্থায়ী কর্মীদের বেতনের ৮৫ শতাংশ দিয়ে থাকে রাজ্য সরকার। বাকি ১৫ শতাংশ বহন করতে হয় পুর কর্তৃপক্ষকে। এই খাতে প্রতিমাসে ১২ লক্ষের বেশি টাকা খরচ হয়ে থাকে জলপাইগুড়ি পুরসভার। এরপর রয়েছে প্রায় তিনশো অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মীর পেনশন। যাতে ফি মাসে এই মুহূর্তে খরচ হচ্ছে ৫৫ লক্ষ টাকা। এর উপর রয়েছে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন। এর জন্য প্রতিমাসে পুরসভার কোষাগার থেকে খরচ হয় ৩৩ লক্ষ টাকা। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বাবদ ফি মাসে পুরসভার খরচ সাড়ে সাত লক্ষ টাকা।
বহু টাকা পিএফ বকেয়া থাকায় সম্প্রতি জলপাইগুড়ি পুরসভার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাটাচ করে দেয় প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে আদালতে যায় জলপাইগুড়ি পুরসভা। আদালতের নির্দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু হলেও বকেয়া পিএফ কীভাবে মেটানো সম্ভব তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে পুরবোর্ড। বকেয়া বাদ দিয়েও বর্তমানে প্রতিমাসে পিএফ খাতে জলপাইগুড়ি পুরসভাকে দিতে হয় ১০ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে পানীয়জল, সাফাই সহ বিভিন্ন বিভাগের গাড়ির খরচ। পুরসভা সূত্রে খবর, সবমিলিয়ে ফি মাসে গাড়ির তেল বাবদ খরচ হয়ে থাকে প্রায় চার লক্ষ টাকা। সবটা হিসাব করলে খরচ দাঁড়াচ্ছে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ বিল। তৃণমূলের আমলে পুরসভার বিদ্যুৎ বিল মেটাত রাজ্য সরকার। এছাড়াও পুরসভার উদ্যোগে এতদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মেলা-খেলা করতে গিয়ে খরচ হয়েছে মোটা টাকা। পুরসভায় বোর্ড মিটিংয়ে টিফিন, বছর শেষে কাউন্সিলারদের উপহার, দৈনন্দিন খরচ-যার সবটা হিসাব করলে জলপাইগুড়ি পুরসভার মাসে খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।