• জলপাইগুড়ি পুরসভায় ধুন্ধুমার! গেটে বিক্ষোভ, ‘চোর’ স্লোগান সৈকতকে
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বকেয়ার দাবিতে বুধবার জলপাইগুড়ি পুরসভার গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। পুরসভার একটি গেট আটকে দেন তাঁরা। বসে পড়েন অন্য গেটের সামনে। সাফাইকর্মীদের  সঙ্গে পুরসভার পানীয়জল সরবরাহ ও ট্যাক্স বিভাগের কর্মীরাও বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। সকাল থেকে পুরসভার সামনে চলা তাঁদের বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের পাশাপাশি ডাকা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুর বারোটা নাগাদ চেয়ার‌ম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় গাড়ি নিয়ে পুরসভায় ঢুকতেই আটকানোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপরই চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে ‘চোর...চোর’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরে হেঁটে ঢুকতে দেখা যায় পুরসভার অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট তাপস দাসকে। তাঁকে উদ্দেশ করেও নাগাড়ে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও পুরসভার অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্টের দাবি, আমি বাইক নিয়ে আসি। বিক্ষোভের জেরে পুরসভার বাইরে বাইক রাখতে হয়। সেকারণেই হেলমেট পরা ছিল। বিক্ষোভ আন্দোলন চলাকালীন অবশ্য পুরসভায় হাজির ছিলেন না ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাত। 

    বকেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামা পুরসভার অস্থায়ী সাফাইকর্মীরা এদিন সকাল থেকে কাজ না করায় জলপাইগুড়ি শহরের আনাচে-কানাচে আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে সাফাইকর্মীরা কর্মবিরতি চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এটা ভেবেই অস্থায়ী কর্মীদের দু’মাসের বেতন বকেয়া থাকলেও এদিন বিকেলে তাঁদের একমাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। 

    জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী একতামঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউত বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের এপ্রিল ও মে মাসের বেতন পাওনা। আমাদের আন্দোলনের জেরে এদিন এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। মে মাসের বেতনও দ্রুত দিতে হবে। 

    অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া একমাসের বেতন হতেই নিজেদের পাওনা আদায়ে এবার চাপ বাড়াতে শুরু করেছেন পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। তাঁদের তিনমাসের পেনশন পাওনা রয়েছে বলে দাবি। বকেয়ার দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত পৌর কর্মচারী সমিতির তরফে ইতিমধ্যেই একাধিকবার পুরসভায় দরবার করা হয়েছে। তারপরও এখনও পর্যন্ত বকেয়া পেনশন মেলেনি বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পৌর কর্মচারি সমিতির সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীরা পেনশন না পেয়ে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এবার আমরা জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভেবেছি। 

    জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, পেনশন বাবদ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে যে টাকা মেলে, সেটা এখনও আমাদের হাতে আসেনি। সেকারণে সমস্যা হচ্ছে। অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আমরা ওঁদের একমাসের বেতন দু’দিন আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। ট্রেজারিতে একটু দেরি হয়েছে। তবে যাই হোক, বুধবার ওঁরা বেতন পেয়ে গিয়েছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)