• খোকনকে নিয়েই ‘রাজপ্রাসাদে’ তল্লাশি, বহু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস এখন পুলিশের হেপাজতে। তাঁর দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী সাহেব আর পাপ্পুকে খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই দু’জনকে পাওয়া গেলে অনেক কিছুর সন্ধান পাওয়া যাবে। এই দু’জনের কাছে অনিয়মের গোপন ‘পাসওয়ার্ড’ রয়েছে। খোকনের মতো তাঁরা রাতারাতি ফুলেফেঁপে ওঠেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে। আরও কয়েকজন কাউন্সিলারও ‘কেডি’র গ্যাংয়ে কাজ করতেন বলে শহরের বাসিন্দাদের দাবি। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে শহরে আর তাঁদের দেখা মিলছে না।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে খোকনকে সঙ্গে নিয়ে রথতলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। বাড়ির গোডাউন থেকে ত্রিপল সহ বহু সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। ট্রাক নিয়ে গিয়ে সেগুলি থানায় আনা হয়। এছাড়া বেশকিছু নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। রথতলায় তাঁর একাধিক সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাঁর নামে-বেনামে আর কোথায় কী রয়েছে, সেটাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রথতলায় খোকনের দাপট ছিল অন্যরকম। তাঁর ইচ্ছাতেই বহু বাড়ির রং নীল-সাদা করতে হয়েছিল। এলাকায় কেউ কোনো জমি বা বাড়ি বিক্রি করতে চাইলে একবার ‘কেডি’কে শোনাতে হত। তবে অনেকে বলছেন, রথতলা তাঁর আমলে নতুন রূপ পেয়েছিল। এলাকাজুড়ে পথবাতি বসানো হয়। রাস্তা সংস্কার, কঙ্কালেশ্বরী মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ণ হয়েছে। 

    তৃণমূলের এক নেতা বলছেন, পরামর্শদাতা হিসেবে কয়েকজনকে বাছাই তাঁর কাল হয়েছিল। সবসময় তাঁকে যাঁরা ঘিরে রাখতেন তাঁরাই তাঁকে বেশি বিপথগামী করেছেন। তিনি শ্রীঘরে যাওয়ার পর তাঁদের আর দেখা যাচ্ছে না। অথচ তাঁরাও খোকনের আশীর্বাদে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তাঁর জন্যই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ নির্মাণ তৈরি হয়েছে। শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট হয়েছে। বহু অপকর্মের সঙ্গে তিনি যুক্ত। তদন্ত হলে সবকিছুই সামনে আসবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। তারাই জমির দাম ঠিক করত। পাড়ায় কেউ শৌচালয় করতে গেলেও তাদের টাকা দিতে হত। এই কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তারা সকলেই খোকনের কাছের লোক হিসাবে পরিচিত।

    বিজেপির দাবি, তাঁর এক বিশ্বস্ত সঙ্গী টোটো চালকদের কাছে থেকেও টাকা নিত। মুখে বলত তাঁদের উন্নয়নের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ সব টাকাই পকেটে যেত। সরকারি জমি তারা বিক্রি করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর যারা যুক্ত রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, অভিযোগ উঠলেই সেটাই যে সত্যি এটা মনে করার কারণ নেই। ব্যবস্থা নেওয়ার আগে পুলিশের তদন্ত করা উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)