• লোহা-টিন ভাঙার গোডাউনের মালিক থেকে বৈভবের শীর্ষে, পিংলার তৃণমূল সভাপতি উত্থান নিয়ে প্রশ্ন
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, খড়্গপুর: এতো আঙুল ফুলে কলাগাছ! 

    লোহা ভাঙা, টিন ভাঙা, পুরানো কাচের বোতল, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের ছোটোখাট গোডাউন ছিল। সেই গোডাউনই এখন  বিশাল কারখানায় পরিণত হয়েছে। পিংলা ব্লক তৃণমূলের (ভেঙে যাওয়া) সভাপতি শেখ সবেরাতির বাগান, বাঁধানো পুকুর সহ প্রাসাদোপম বাড়ি দেখলে চোখ কপালে উঠবে বড়ো বড়ো শিল্পপতিদেরও! বাড়ির গ্যারেজে দাঁড়িয়ে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। এলাকাবাসীর দাবি, পিংলার এগারো মাইল থেকে কড়কাই পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবেরাতি সাহেবের কয়েক একর জমি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ছেলের চোখধাঁধানো বিয়ে বাড়ির আয়োজনও করেছিলেন সবেরাতি সাহেব। অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতার এই সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি হয়েছে গত ১৫ বছরে। যদিও, অভিযোগ উড়িয়ে বিষয়টিকে ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য শেখ সবেরাতি।

    পিংলার এগারো মাইল এলাকায় বাড়ি এই তৃণমূল নেতার। একসময় এগারো মাইল বাজারে পুরনো জিনিসপত্রের একটি ছোটোখাট গোডাউন ছিল শুধু তাঁর। ফেরিওয়ালাদের থেকে তিনি লোহা ভাঙা, টিন ভাঙা, পুরানো কাচের বোতল, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কিনতেন। পরে তৃণমূলের বুথ ও অঞ্চল সভাপতি হন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে হন পিংলা ব্লক তৃণমূল সভাপতি। তারপর থেকেই সবেরাতি সাহেবের বৃহস্পতি তুঙ্গে। চমকপ্রদ উত্থান হয় বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল ব্লক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন দুর্নীতি করে, ঠিকাদারদের কাছে কাটমানি খেয়ে এবং প্রভাব খাটিয়েই এই বিশাল সম্পত্তি ও বাড়ি-গাড়ি করেছেন সবেরাতি সাহেব। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আবার এর তদন্তও চেয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব কুমার মাইতি, নারায়ণ মান্না, লক্ষ্মণ হাঁসদারা বলেন, নামে ও বেনামে কয়েক একর জায়গা আছে এই তৃণমূল নেতার। পুরোটাই প্রভাব খাটিয়ে করেছেন। ঠিকাদারদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি আদায় করেছেন। তোলা তুলেছেন। আর প্রভাব খাটিয়ে নিজের ব্যবসার বহরও বাড়িয়েছেন।

    বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার নেতা গোবিন্দ দাস বলেন, আমি যখন তৃণমূলে ছিলাম, একসঙ্গেই পিংলায় নেতৃত্ব দিতাম। পরে আমি বিজেপিতে যাই। গত কয়েক বছরে উনি বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, কারখানা, জমি, জায়গা  করে বসে আছেন! বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পঞ্চানন জানা বলেন, সাধারণ এক লোহা ভাঙা, টিন ভাঙার কারবারি থেকে কোটি, কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন। তিন একর জায়গার উপর যে বিশাল বাড়ি করেছেন, তার সামনে থেকে উনি বেশ কয়েকজন গরিব মানুষকে উচ্ছেদও করেছেন। গোবিন্দ বাবু ও পঞ্চাননবাবু দু’জনই এর উপযুক্ত তদন্তের দাবি করেন। অন্যদিকে, শেখ সবেরাতি বলেন, আমার ৩৫ বছরের পুরানো ব্যবসা। স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসার পরিধি বেড়েছে। ২০০৯ সালে আমি বাড়ি করেছি। আর গত কয়েকবছরে একটা জমি কিনতে গিয়ে আমার দু’টো জমি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এলাকার মানুষের আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পিংলার ওই দলবদলু নেতা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। ভোটের আগে উনি তো ফের তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন! এখন আবার বিজেপি সাজছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)