• নথি দেখাতে ভয় পেলে বাংলাদেশে চলে যান, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে বিস্ফোরক সাংসদ জগন্নাথ
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রানাঘাট: যারা নথি দেখাতে ভয় পাচ্ছে তারা বাংলাদেশে চলে যাক। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে বিস্ফোরক রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে যাঁরা নথি দেখাতে ভয় পাচ্ছেন তাঁদের সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নিদান দিলেন রানাঘাটের এই বিজেপি সাংসদ। বুধবার জগন্নাথবাবু জানান, যাঁরা নথি দেখাতে ভয় পাচ্ছে সরকারকে, তাঁরা বাংলাদেশে চলে যাক। যাঁরা এদেশের প্রকৃত নাগরিক, তাঁদের তথ্য দিতে কোনো ভয় থাকার কথা নয়। যাঁদের মনে ভয় নেই, তাঁরা বুক ফুলিয়ে এগিয়ে আসুন। ফর্ম পূরণ করুন। আর যাঁদের ভয় আছে, তাঁরা যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকে তবে তাঁদের  এদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়াই উচিত। সাংসদ আরও বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে গেলে পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি সরকারের কাছে জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তার ফলে বহু মানুষ নথি দিতে অস্বীকার করছেন। সাংসদের মতে, একমাত্র অনুপ্রবেশকারী বা যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে তাঁরাই নথির মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন।

    রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে এস. আই. আরের সময় এবং রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে প্রচুর মানুষের দেশ ছাড়ার হিড়িক চোখে পড়েছিল। তৃণমূল সরকার থাকার সময় এরাই সব সরকারি প্রকল্পের সুযোগ, সুবিধা পেত বলেও জানা গিয়েছে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষের কাছে যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে তার ফলে দেশের সঠিক নাগরিকরাই এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন। নতুন রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতভাবে রাজ্যের আসল নাগরিকরা সুরক্ষিত হবেন তেমনই অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

    আগের তৃণমূল সরকারের আমলে সঠিক তথ্য যাচাই না হওয়ার কারণে বহু অনুপ্রবেশকারী এদেশের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে যেতেন। ফলে দেশের প্রকৃত নাগরিকরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। নতুন সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অন্য কোনো দেশ থেকে আসা কোনো অনুপ্রবেশকারীকে এদেশের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে দেওয়া হবে না। সরকারি কোষাগরের টাকা শুধুমাত্র এদেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ। সঠিক নথিপত্র জমা দিলেই তাঁরা নিয়ম মেনে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই বিষয়ে তৃণমূলের একাংশ জানান, আগামীতে সাধারণ মানুষ এই মন্তব্যের জবাব দিতে পারবে।
  • Link to this news (বর্তমান)