প্রতিহিংসা মেটাতে ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, পিংলার শিক্ষক গ্রেপ্তার
বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, খড়্গপুর: শিক্ষকের লালসার হাত থেকে বাঁচতে নিজের স্কুল পর্যন্ত পরিবর্তন করেছিল ছাত্রী। অভিযোগ, লালসা মেটাতে না পেরে, প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ছাত্রদের দিয়ে ওই নাবালিকা ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করায় ‘গুণধর’ শিক্ষক। অভিযুক্ত ছাত্রদের আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। গত ৩০ মে সেই খবর প্রকাশিত হয় বর্তমানে। এরপর বুধবার সেই শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার কেলেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা, বছর চল্লিশের ওই শিক্ষকের প্রসূন বেরা। যদিও, ঘটনাটি ঘটে সবং থানা এলাকায়। এই ঘটনা ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়েছে সবং ও পিংলা এলাকায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের চরম শাস্তির দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। বুধবার জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, নজিরবিহীন ঘটনা। বাবা-মা’র পর শিক্ষকরাই ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক। একজন শিক্ষক কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন! আমরাও আদালতের কাছে ওঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানাব। সেইসঙ্গেই জেলার সব ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলব, কেউ ভয় পাবে না। জেলা পুলিশ সবসময় ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সবং থানা এলাকার একটি স্কুলে পড়ে ওই ছাত্রী। আগে সবংয়ের অন্য একটি স্কুলে পড়ত সে। সেই স্কুলেরই শারীরবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন অভিযুক্ত প্রসূন বেরা। অভিযোগ, বছরখানেক ধরেই ওই শিক্ষক নির্যাতিতা ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে চলছিলেন। বাড়িতেও ছাত্রী সেকথা জানায়। তবে বাবা, মা বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে মেয়ের স্কুল পরিবর্তন করে দেন। কিন্তু তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি, ওই শিক্ষক এতখানি প্রতিহিংসা পরায়ণ! গত ১১ মে ওই ছাত্রী যখন সাইকেলে করে নিজের স্কুলে যাচ্ছিল সেইসময়ই সাত-আট জন ছাত্র গিয়ে ওই নাবালিকার পথ আটকায়। এরপর রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে তার শ্লীলতাহানি করে। সেইসঙ্গেই হুমকি দেয়, প্রসূনবাবুর প্রস্তাবে সাড়া না দিলে আরও বড় বিপদ হবে! চরম বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে যায় নির্যাতিতা। ১২ মে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ছাত্রীর পরিবার। তারপর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এর মধ্যেই সুকুমার জানা নামে এক ব্যক্তি নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। খবর পেয়েই পুলিশ সুকুমারকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই গত ২৯ মে গ্রেপ্তার করা হয় ওই পাঁচ ছাত্রকে।
এদের মধ্যে উত্তম কুমার সাঁতরা, সুদীপ্ত বেরা, আশিস ভৌমিক সাবালক হলেও অপর দু’জন নাবালক বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। বুধবার মেদিনীপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ সুপার জানান, পলাতক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আমাদের। শেষমেশ আমাদের এসওজি টিম ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার বেলা দু’টো নাগাদ নারায়ণগড়ের একটি এলাকা থেকে শিক্ষককে পাকড়াও করে।’ বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান এসপি। এদিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই শিক্ষক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, মা ও দুই নাবালক সন্তান আছে বলে জানা গিয়েছে।