ডানলপ থেকে বারাকপুর মেট্রো ফের চর্চায়, বৈঠকে স্বয়ং বিধায়ক
বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: রাজ্যে পালাবদল হতেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে ডানলপ-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশার আলো দেখেছেন বাসিন্দারা। বহু প্রতীক্ষিত ডানলপ-বারাকপুর প্রস্তাবিত মেট্রো প্রকল্পের কাজ চালু করতে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই মেট্রো প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন বারাকপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে জানিয়েছেন, রেল যদি অনুমতি দেয়, তাহলে রাজ্য সরকারের দিক থেকে কোনো অসুবিধা নেই। রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ৬ জুন রাজ্যে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আসবেন। তার সঙ্গে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের প্রস্তাব দীর্ঘদিনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু বিটি রোডের নীচে চারটি বড়ো মাপের জলের পাইপ প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে বড়ো পাইপটি ছিল ৭২ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের। এই পাইপের মধ্য দিয়ে পলতা থেকে গঙ্গার পরিস্রুত জল টালা ট্যাঙ্কে যায়। সেখান থেকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মেট্রো প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে যদি পাইপের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে কলকাতার জন্য জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কায় কলকাতা পুরসভা এই কাজের ক্ষেত্রে সবুজ সংকেত দেয়নি।
সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বারাকপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি রাজি আছেন। মেট্রোরেলের নতুন জেনারেল ম্যানেজার হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব। বুধবার মেট্রোরেলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে মাটির নীচে থাকা পাইপ সরানো যেতে পারে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। রেলমন্ত্রী আসছেন। আমি তাঁকে প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝাব। প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিতে জলের পাইপ বাঁচিয়ে মেট্রো পথ কীভাবে তৈরি করা যায় সেদিকটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডানলপ মোড় থেকে বারাকপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিমি দীর্ঘ রুটে ১১টি মেট্রো স্টেশন থাকবে। কোথায় কোথায় সেই স্টেশন হবে তার রূপরেখা আগে থেকে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন দেখার, রেলমন্ত্রক চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কি না। এই প্রকল্পের অনুমোদন পেলে বারাকপুর মহকুমার মানুষের দিগন্ত খুলে যাবে।