• বেলগাছিয়া ভাগাড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ১২০ ফুট গভীর জলাধারে পড়ে মৃত্যু নাবালকের
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে পরিত্যক্ত পাম্পিং স্টেশন চত্বরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বুধবার সকালে প্রায় ১২০ ফুট গভীর একটি ভূগর্ভস্থ জলাধারে পড়ে তলিয়ে যায় ১৫ বছরের কিশোর অভিষেক রাও ওরফে কালু। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের পর বিকালে জলাধার থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিদিনের মতোই কাজ সেরে ভাই বিশালের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল অভিষেক। সেই সময় পরিত্যক্ত ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের ভিতর দিয়ে আসার সময় আচমকা পা পিছলে যায় তার। মুহূর্তের মধ্যে সে গভীর গহ্বরে পড়ে যায় এবং জলের তলায় তলিয়ে যায়। ভাই বিশাল বলে, ঘটনার পরপরই অভিষেককে খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তার সন্ধান মেলেনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় লিলুয়া থানার পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ আধিকারিক, দমকল, জেলা প্রশাসনের কর্তারা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয় প্রায় ১০ জন ডুবুরিকে। একইসঙ্গে পাম্পের সাহায্যে জলাধারের জল ও পাঁক সরানোর কাজ শুরু হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশির পর বিকালে কিশোরের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

    প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চ মাসে বেলগাছিয়া ভাগাড়ে বড়োসড়ো ধসের ঘটনা ঘটার পর থেকেই কেএমডিএ’র পুরানো ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। উদ্ধারকাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। রুদ্রনীল ঘোষের দাবি, ধসের পর থেকেই পাম্পিং স্টেশনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে বেলগাছিয়া ভাগাড় পুনর্গঠনের পাশাপাশি পাম্পিং স্টেশনের সংস্কার এবং গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এদিনের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)