নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ভিআইপি কোটায় মৃতদেহ সৎকার করানো নিয়ে তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ, টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর উপস্থিতিতে শ্মশানের সাব রেজিস্ট্রারকে চূড়ান্ত হেনস্তা করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সাব রেজিস্ট্রারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার খবর পৌঁছেছে নবান্নের শীর্ষস্তরেও। সেখান থেকেও খোঁজ-খবর শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে। দুপুর দেড়টার আশপাশে শ্মশানে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে এসে বিজেপির এক মহিলা নিজেকে স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি পরিচয় দেন। সেই সময় সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন বিমানচন্দ্র পাল। ভিআইপি কোটায় গৌরী ঘোষ নামক একজনের মৃতদেহ সৎকারের নির্দেশ দেন ওই মহিলা। স্বাভাবিক নিয়মেই সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করেন বিমানবাবু। তিনি জানিয়ে দেন, মেয়র, ডেপুটি মেয়র, চেয়ারপার্সন এবং পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছাড়া আর কারও নির্দেশ তিনি মানবেন না। এটাই প্রোটোকল। এই কথা শুনে বিজেপির ওই মহিলা নেত্রী সরাসরি ফোন করেন পাপিয়া অধিকারীর পিএকে। তিনিও সাব রেজিস্ট্রারকে ‘চাপ’ দেন। কিন্তু, বিমানবাবু মানতে না চাওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপরই ঘটনা বড় আকার ধারণ করে। প্রায় ২০ মিনিট পর একদল বিজেপি কর্মী এসে চড়াও হয় শ্মশানের সাব রেজিস্ট্রার অফিসে। বাইরে গাড়িতে ছিলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর নাম করে ‘ভিআইপি’ কোটায় সৎকার করানোর চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু সাব রেজিস্ট্রার জানান, বিধায়ক বললেও, তিনি কিছু করতে পারবেন না। কিন্তু উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা ততক্ষণে তাঁকে গালাগালি করা শুরু করে। বিমানবাবুর কলার ধরে জোরজবরদস্তি বাইরে গাড়িতে থাকা পাপিয়া অধিকারীর কাছে নিয়ে আসা হয়। সাব রেজিস্ট্রার তাঁকেও জানান, ভিআইপি অনুমোদন করার ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই। তিনি নিয়ম না মানলে শো-কজের মুখে পড়বেন। তিনি যেন পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু, অভিযোগ, উলটে বিধায়কও তাঁকে হুমকি দিতে থাকেন এবং চাপ সৃষ্টি করেন। এই পরিস্থিতিতে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ফোন যায় পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রনিতা সেনগুপ্তের কাছে। তাঁর হস্তক্ষেপে বিজেপির দাবি মেনে ‘ভিআইপি’ সৎকারের ব্যবস্থা হয়।
যদিও, এই ঘটনায় সাব রেজিস্ট্রার বিমানবাবুর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। উলটে উনিই খারাপ ব্যবহার করছিলেন। ওদের সৎকার যেন তাড়াতাড়ি করা যায়, তাই আমার আপ্তসহায়ক বলেছিল। কিন্তু, বিধায়ক অফিসের ফোন পেয়েও উনি খারাপ ভাষায় কথা বলতে থাকেন। আমি ওখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাই শ্মশানে গিয়েছিলাম। আমরাই তো সরকার! আমরা কেন সরকারি কর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করব।