• নির্বাচনে জয়ী হয়েও জনবিচ্ছিন্ন? তৃণমূল বিধায়কদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
    বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের মাসখানেকের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মানচিত্রে নয়া বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেলার জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ভোটে জেতার পর জনপ্রতিনিধিরা কোথায় গেলেন? ২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির মধ্যেও উত্তর ২৪ পরগনায় দলের ১০ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিজেপি সরকার গঠনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁদের অনেকেই রক্ষণশীল রাজনীতি বেছে নিয়েছেন! এলাকায় কর্মসূচি নেই, জনসংযোগ নেই। এমনকি কর্মীদের ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের উত্তর মিলছে না বলে খবর। সবচেয়ে বেশি আলোচনা বসিরহাট মহকুমা নিয়ে। এই মহকুমায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি বিধানসভায় জোড়াফুল ফুটেছে। কিন্তু এখানেও ‘শীতঘুম’-এ তৃণমূল! বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও পরে সেই পোস্ট সরিয়ে নেন তিনি। বসিরহাট উত্তর, বসিরহাট দক্ষিণ, স্বরূপনগর, হাড়োয়া, মিনাখাঁ কিংবা দেগঙ্গা— একাধিক বিধানসভা এলাকায় বিধায়কদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা চোখে পড়ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমানও জনসমক্ষে কার্যত অনুপস্থিত। হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মাতিনের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতিতে এলাকায় কর্মসূচি করতে দেখা যাচ্ছে হাড়োয়ার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর মণ্ডলকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকায় দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। মিনাখাঁর বিধায়ক ঊষারাণী মণ্ডল, দেগঙ্গার আনিসুর রহমানদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় নন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মোকদ্দিম ওরফে লিটনকে নিয়েও জল্পনা কম চলছে না। ভোট-পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। 

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক তদন্ত, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং একের পর এক ধরপাকড়ে তৃণমূলের বহু নেতার মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতৃত্বের একাংশ এখন আত্মরক্ষাতেই বেশি ব্যস্ত বলে বিরোধীদের কটাক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপরও। জেলার একাধিক পুরসভায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য কোনো কাজ কার্যত এগচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার পুরসভাগুলিতে তিনজনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাথায় থাকছেন ডব্লুবিসিএস অফিসাররা। এদিকে বিজেপির দাবি, ভোটে জিতে আসা তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক নতুন সমীকরণের খোঁজে এখন ‘জল মাপছেন’।
  • Link to this news (বর্তমান)