৮ বছর আগে বিবাদ থামাতে গিয়ে চপারের কোপে খুন যুবক, দোষীর যাবজ্জীবন সাজা
বর্তমান | ০৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভরা রাস্তার মাঝে দুই ভাইয়ের বিবাদ থামাতে গিয়ে চপারের কোপে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছিল এক যুবকের। অন্য এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ধারালো অস্ত্রের কোপে তাঁর একটি হাত কেটে বাদ হয়ে যায়। ২০১৮ সালে কলকাতা পুলিশের রাজাবাগান থানা এলাকায় এমনই এক নৃশংস ঘটনায় মহম্মদ কালাম নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ শোনাল আদালত। বুধবার আলিপুরের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী এই আদেশ দিয়েছেন। বিচারক ওই সাজার পাশাপাশি খুনের চেষ্টার জন্য অপরাধীকে আরও দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এই মামলায় এদিন আদালত দোষী সাব্যস্ত যুবককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে। জরিমানার টাকা আদায় হলে তা জখম ব্যক্তিকে দেওয়ার কথাও বলেন বিচারক। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে লিগ্যাল এইডকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে আদালত। অন্যদিকে, প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত এক ভাইকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। এই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অরবিন্দ মিত্র এদিন আদালতে বলেন, ঘটনার ভয়াবহতা গা শিউরে ওঠার মতো। তাই দোষী সাব্যস্ত অপরাধীর কড়া সাজা হওয়া দরকার। যদিও অপরাধী মহম্মদ কালাম আদালতে কম সাজার পক্ষে সওয়াল করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর দুপুরে ঘটনাটি ঘটে রাজাবাগান থানা এলাকায়। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত চালিয়ে উদ্ধার হয় রক্তমাখা চপারটি। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সুব্রত সরকার আলিপুর কোর্টে হত্যা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে চার্জশিট পেশ করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয় মোট ১৮ জনকে। চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। দীর্ঘ শুনানির শেষে, দীর্ঘ আট বছর পর এদিন ঘোষিত হল মামলার রায়। আলিপুরের পূর্বতন মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি শিবনাথ অধিকারী এদিন সাংবাদিকদের বলেন, এই খুনের মামলায় পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে গোপন জবানবন্দি পেশ করেছেন।