এই সময়: একতলার একটি ঘর থেকে ব্যাগভর্তি উইয়ে খাওয়া টাকার উদ্ধার হওয়ার পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। ওই ঘটনায় বুধবার দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মুচিপাড়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলাও রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই দু'জন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরিতোষ দত্ত। পুলিশ সূত্রের খবর, কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কী ভাবে ওই অস্ত্র ইউনিয়ন রুমে এল, কেন সেটা আনা হয়েছিল, এ সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সূত্রের খবর, তৃণমূলের দুই তৃণমূল নেতাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের চারটি শাখারই (মহিলা, দিবা, আইন ও সান্ধ্য) গভর্নিং বডির সরকার মনোনীত সদস্য ছিলেন তৃণমূল নেতা দেবাশিস। অভিযোগ, দেবাশিস ও পরিতোষ কলেজের একতলার একাধিক ঘর, এমনকী ইউনিয়ন রুমও তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন। সেখানে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। দুই নেতা নিজেদের কাজে কলেজের ওই সব ঘর ব্যবহার করতেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ যখন কলেজ কর্তৃপক্ষ একতলার একটি ঘর খোলেন, তখন সেই ঘরে দু'টি ট্রলির ভিতরে উইয়ে খাওয়া টাকা উদ্ধার হয়। তার পরে মঙ্গলবার রাত পৌনে ন'টা নাগাদ কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্য পড়ুয়ারা ইউনিয়ন রুমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পান। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পূর্ণেন্দুপ্রকাশ পালের অভিযোগ, তৃণমূলের ওই দুই নেতার কাছে একতলার বন্ধ ঘরগুলোর চাবি চাইলে তাঁরা হুমকি দিতেন। তবে মঙ্গলবারই দেবাশিস তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারানুম বলেন, 'গোটা ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। কলেজ প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের প্রবেশেও কড়াকড়ি করা হবে।' সূত্রের খবর, পড়ুয়াদের পরিচয়পত্রে বিশেষ চিপ বসানো হবে। এর ফলে তাঁদের উপস্থিতি বোঝা যাবে এবং পরিচয়পত্র ছোঁয়ালে তবেই দরজা খুলবে।
বুধবার কলেজে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ ও দিবা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সদস্যরা। ওই ছাত্র সংগঠনের তরফে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এবিভিপি-র কলকাতা মহানগরের সম্পাদক স্বাধীন হালদার বলেন, 'কলেজে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা যেন মুক্তমনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারে, সেই দাবিই জানানো হচ্ছে।'
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাঁচতলায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বেডরুমের হদিশ মেলায় মঙ্গলবার হইচই হয়। বুধবার আবার চারতলা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। ছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, চারতলার ফাঁকা ঘরগুলোয় আনাগোনা ছিল বহিরাগতদের। যাঁদের কেউ কেউ কলেজের প্রাক্তনী এবং তাঁদের 'মনোরঞ্জন' করতে হতো ছাত্রীদের একাংশকে। কিন্তু ভয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা এতদিন অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি বলে সূত্রের খবর। দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের অভিযোগ, গত বছর মাইক্রোবায়োলজিতে ভর্তির জন্য তাঁকে ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।