• রাতে সীমান্ত পেরোতে গিয়ে গুলিতে আহত ২, ‘ডিপোর্টেড’ ১১ জন বাংলাদেশি
    এই সময় | ০৪ জুন ২০২৬
  • এই সময়: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশব্যাক করে বেআইনি ভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে ধরপাকড়ের ভয়ে অনেকেই লুকিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।

    মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ভাবে গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার সময়ে বিএসএফ–এর গুলিতে জখম হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত সংলগ্ন কালিন্দী নদী সাঁতরে পেরোনোর সময়ে গুলিতে জখম হন মহিউদ্দিন গাজী (৪২) ও মহম্মদ শাহীন (২৮)।

    বছর খানেক আগে তাঁরা তামিলনাড়ুতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতে যান। অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পরে তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। দু'জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহিউদ্দিনের পরিবারের দাবি, বিএসএফের মাধ্যমে ফেরা সহজ নয়। জটিল কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে আটকে থাকতে হচ্ছে। গত চার দিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে এক দল বাংলাদেশি জ়িরো লাইনে আটকে ছিলেন। মানবিক কারণে বুধবার তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বিএসএফ।

    এ দিকে দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত দিয়ে মঙ্গলবার রাতে ১১ জনকে বাংলাদেশে 'ডিপোর্ট' করেছে বিএসএফ। কোন সীমান্ত দিয়ে তাঁদের পাঠানো হয়েছে, তা জেলা প্রশাসন জানায়নি। জেলাশাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি বলেন, 'এটি সরকারি প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা হচ্ছে।' বুধবার বিকেলের পরে জেলার রামপুর হোল্ডিং সেন্টারে আর কোনও অনুপ্রবেশকারীকে দেখা যায়নি। গত ২৮ মে রাত থেকে রামপুর কর্মতীর্থ হোল্ডিং সেন্টারে ওই অনুপ্রবেশকারীদের রাখা শুরু হয়।

    অনুপ্রবেশের অভিযোগে নদিয়ার হরিণঘাটা থেকে দুই বাংলাদেশিকে পাকড়াও করা হয়েছে। তিন বছর ধরে বেআইনি ভাবে ভারতে থাকছিলেন তাঁরা। হরিণঘাটার নগরউখড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দিঘলগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া শেখ আবদুল জালাল (৫৩) ও তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম (৪৩) বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা। হরিণঘাটায় দিনমজুরি করতেন। পুলিশের দাবি, ভারতে থাকার জন্য তাঁদের কোনও বৈধ কাগজ নেই। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে এসেছিলেন। তারপরে এ পারে থেকে যান। কল্যাণীর গয়েশপুরে 'হোল্ডিং সেন্টারে' পাঠানো হয়েছে তাঁদের।

    এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশি যুবক শাহিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। মঙ্গলবার তাঁকে লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ জেনেছে, শাহিন ২০১১–য় বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে সামশেরগঞ্জে এসে থাকতে শুরু করেন। পরে পরিচয় গোপন করে বিয়ে করেন।

  • Link to this news (এই সময়)