ক্ষুদিরামের অস্ত্রগুরুর হাতে ছিল কলমও! বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর অজানা সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণায়
News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
দীর্ঘ দু’শো বছর ধরে ব্রিটিশদের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল ভারতবর্ষ। সেই গ্লানি মোচন করতে এবং দেশকে স্বাধীন করতে হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছিলেন বহু তরুণ তরতাজা বিপ্লবী। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একেবারে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা।
এই মেদিনীপুরেরই অন্যতম বীর সন্তান ছিলেন তরুণ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। আর ক্ষুদিরামের অস্ত্রগুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন হেমচন্দ্র কানুনগো। দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে যিনি বিদেশে গিয়ে বোমা তৈরির কৌশল শিখে এসেছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড়ে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর শুধু একটাই পরিচয় ছিল না।
আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একাধারে দক্ষ অঙ্কনশিল্পী এবং প্রতিভাধর সাহিত্যিক। এবার তাঁর সেই অজানা সাহিত্য প্রতিভার দিক নিয়েই গবেষণা করে নজির গড়লেন এক শিক্ষক। হেমচন্দ্রকে নিয়ে খুব একটা লেখালেখি হয়নি। সামান্য বেশ কয়েকটি বই, বেশ কয়েকজন গবেষকদের লেখা কিছু তথ্য জানেন সাধারণ মানুষ। তবে এবার এক শিক্ষক তা দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর গবেষণায় তিনি হেমচন্দ্রের নানা অনালোচিত দিক তুলে ধরেছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের দেউলা বাপুজী শিক্ষা সদনের বাংলা বিভাগের শিক্ষক স্বপন ঘোষ এই অসামান্য কাজটি করেছেন। অনালোচিত বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর সাহিত্য সৃষ্টির নানা দিক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করে সম্প্রতি তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। স্বপনবাবু নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করে তাঁর গবেষণাপত্রে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। জানা যায়, হেমচন্দ্র কানুনগো একাধিক বই লেখার পাশাপাশি রচনা করেছেন বহু প্রাণবন্ত কবিতা এবং গান। তাঁর রচিত বিভিন্ন কবিতা ও গানে সবসময় বিজয় বা জয়ের কথা উৎসর্গ করা হয়েছে।
হেমচন্দ্র কানুনগো ছিলেন সেই সব বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম, যাঁরা নিজেদের জীবদ্দশায় দেশের স্বাধীনতা লাভ দেখেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বেশ কয়েক বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। স্বভাবতই বোঝাই যায়, তাঁর মধ্যে শুধু একজন রুক্ষ বিপ্লবী সত্তাই ছিল না, বরং লুকিয়ে ছিল এক গভীর সাহিত্যিক মন।
শিক্ষক স্বপন ঘোষের এই কাজ সমাজ এবং সাহিত্যের জন্য সত্যিই খুব ভাল একটি উদ্যোগ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হেমচন্দ্র কানুনগোর সাহিত্যকর্ম নিয়ে এমন গবেষণা সম্ভবত এটাই প্রথম। স্বপনবাবুর এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আগামী প্রজন্ম হেমচন্দ্র কানুনগোর মত এক মহান বিপ্লবীর অজানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবে।