ভেঙে চুরমার তৃণমূল কংগ্রেস! বিধানসভায় টান টান নাটকীয়তায় সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। যার জেরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, তৃণমূল যুব কংগ্রেস, ট্রেড ইউনিয়ন, সংখ্যালঘু সেল-সহ সমস্ত কমিটি-সংগঠন ভেঙে খান-খান হয়ে গিয়েছে। বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্য রাজনীতিতে যেভাবে নিত্যনতুন ‘ট্যুইস্ট’ দেখা দিচ্ছে, সেই মর্মেই এবার রসিক খোঁচা ঋত্বিক চক্রবর্তীর।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী? সরকার বদলের পর থেকেই এহেন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সর্বত্র। তবে প্রথম থেকেই নেতা-কর্মীদের উপর ভরসা রেখেছিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, ফের ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু দলের অন্দরে যে চোরাস্রোত বইছে, তা সম্ভবত ঘুণাক্ষরেও টের পাননি দলনেত্রী! কালীঘাটের বৈঠকে একের পর এক বিধায়কের অনুপস্থিতিও প্রাথমিকভাবে বুঝতে দেয়নি কী ঘটতে চলেছে? তবে সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির সই বিতর্কই মুহূর্তে বদলে দিল ‘খেলা’র সমীকরণ। কারণ সই কাণ্ডে মুখ খুলে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই ‘পাওয়ার গেম’-এ শামিল হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। শক্তি প্রমাণে ‘আসল তৃণমূল’ স্বীকৃতি পেতে কার্যত দলের বিদ্রোহীদের এক ছাতার তলায় আনতে মরিয়া ঋতব্রত। এরপরই বুধবার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে জমা পড়ে দলের ৫৮ বিদ্রোহী বিধায়কের সই করা চিঠি। খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের ভাঙন থেকে ‘মালিকানা’ বদল নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এমন আবহেই তৃণমূলকে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের আখ্যা দিয়ে কতিপয় শব্দে যে বিদ্রুপবাণ ছুড়েছেন ঋত্বিক, তাতে হাসির রোল নেটভুবনে।
রসিকতাচ্ছলে ঋত্বিক চক্রবর্তী লিখেছেন, “গ্যাং-টা টুকরো টুকরো হয়ে গেলে কী নাম হবে? টুকরে টুকরে গ্যাং?” আসলে সিনেদুনিয়া কিংবা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে অভিনেতাকে একাধিকবার কৌতুকছলে খোঁচা দিতে দেখা গিয়েছে। কোনও জ্বলন্ত ইস্যুতে কৌতুকের মোড়কে বিঁধতে ঋত্বিকের জুড়ি মেলা যে ভার, সে সম্পর্কে অনুরাগীরা ভালোই অবগত। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আবহেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নরেন্দ্র মোদি থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বদের ‘বাংলা বিভ্রাট’ নিয়েও বিঁধতে ছাড়েননি ঋত্বিক! যদিও ভোটের রেজাল্টের পর অভিনেতার ‘সোশাল সুর’ খানিক নরমই হয়ে পড়েছিল, তবে এবার তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করে ফের চর্চায় অভিনেতা। এদিকে ছাব্বিশে ভরাডুবির পর টলিউড তারকাদের ‘মায়া-মমতা’র বদলে যাওয়া সমীকরণ দেখে মুচকি হাসছে বঙ্গবাসী! এযাবৎকাল একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে, এমনকী ‘প্রিয় দিদি’র ডাকে রাজপথে যাঁদের হাঁটতে দেখা যেত কিংবা তৃণমূল সুপ্রিমোর চতুর্দিকে উপগ্রহের মতো উপবেশনে লাইমলাইট কেড়ে নিতেন যেসব সেলেব মুখরা তাঁরা সকলেই এখন ডুমুরের ফুল! মমতা পাশে থাকা দূরঅস্ত, তৃণমূল দলটাকেই প্রায় অস্বীকার করে বসেন তাঁরা! আর তারকাদের এহেন ভোলবদল নিয়েই বুধ সকালে টিপ্পনি কেটেছেন অরিত্র দত্ত বণিক।
সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা শিল্পীর কথায়, “নেতারা যে ডিগবাজি খায় জানতাম, কিন্তু টালিগঞ্জের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ডিগবাজি অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ড। সরকারি পদ, মাইনে, পেনশন সব সুবিধা করে নিয়ে এখন মমতা-অভিষেকের ছায়া দেখলেও পালাচ্ছে, বিজেপির নেতাদের দেখলেই একগাল হাসছে। এদের আমার পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।” একদিকে ঋত্বিক, আরেকদিকে অরিত্র, সিনেপাড়ার দুই সদস্যের ‘বিদ্রুপ ব্রহ্মাস্ত্রে’ রীতিমতো পেটে খিল ধরার জোগাড় নেটভুবনের।