‘টলিউডে SIR হবে, টাকা দিয়ে যে অযোগ্যরা কাজ পেয়েছেন…’, বড় ঘোষণা পাপিয়া অধিকারীর
প্রতিদিন | ০৪ জুন ২০২৬
দীর্ঘ দু’দশক বাদে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ‘বিশ্বাস দূর্গে’র পতন ঘটিয়েই সিনেইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন পাপিয়া অধিকারী। নিজেকে ‘মোদির সেনাপতি’ বলে পরিচয় দেওয়া নেত্রী-অভিনেত্রী এবার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিধায়ক। সেখানেই টলিউডের কর্ম সংস্কৃতিতে বড়সড় রদবদলের ঘোষণা করলেন পাপিয়া। স্পষ্ট জানালেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দুর্নীতি ধুয়ে-মুছে সাফ করতে এবার টলিউডে শুরু হবে এসআইআর প্রক্রিয়া।
বিগত এক দশকে ফেডারশন আর স্বরূপ বিশ্বাস পরস্পরের সমার্থক ছিল। এইসময়ে একাধিকবার ‘রাজনীতির নাগপাশ থেকে টলিউডকে মুক্ত’ করার দাবি উঠেছে বাংলা সিনেপাড়ায়! কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর মিলেছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে সরব হওয়ায় বিরাগভাজন হতে হয়েছে শিল্পীদের। গত একবছরে ফেডারেশনের আস্ফালনে বাংলা সিনেপাড়ার ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও কম হইচই হয়নি। সিনেইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তিত্ব এযাবৎকাল অভিযোগ তুলেছেন যে, টলিউডে একচ্ছত্র প্রতিপত্তি বহাল রেখেছিল ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। তবে বুধসকালে স্বরূপ বিশ্বাসের ফেডারেশন জমানার কফিনে পেরেক পুঁতে নতুন অধ্যায়ের সূচনার ঘোষণা করেন পাপিয়া আধিকারী।
নেত্রী-অভিনেত্রীর সাফ কথা, “সকলে একছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পুরনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে এবার সিনেশিল্প এগোবে নতুন পরিচয়ে— Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation বা EIMPCC-র হাত ধরে। তার জন্য যা যা দরকার, প্রতি সপ্তাহে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় আলোচনা হবে। সকলকে নিয়ে কাজ হবে। ফেডারেশনের আওতায় যে ২৬টি গিল্ড ছিল, সেটা আর থাকবে না। পরিবর্তে ‘সিনেম্যাটোগ্রাফি’, ‘পরিচালক’, ‘প্রোডাকশন কন্ট্রোলার’ এবং ‘আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম’- এই চারটি বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ পাবেন সকলে।” শুধু তাই নয়, গত দেড় দশকে টলিউডে নিষিদ্ধ সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন পাপিয়া।
টালিগঞ্জের তারকা বিধায়কের মন্তব্য, “ব্যান কালচার মুছে যাবে টলিউড থেকে। সিনেমার তৈরি করতে একজন প্রযোজকের যা যা দরকার, আমাদের এই চারটি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরাই ঠিক করবেন। কোনও কলাকুশলী বাদ যাবেন না। সবাই কাজ করবেন। গত ৪-৫ মাসে একটাও সিনেমা নথিভুক্ত হয়নি আমাদের এখানে। এটা তো সিনেমার রাজ্য। সেই হীরালাল সেনের আমল থেকে এখানে ছবি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেই সংস্কৃতিতে ছেদ পড়েছে গত কয়েক বছরে।” ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দুর্নীতির পর্দাফাঁস করতেও নতুন স্ট্র্যাটেজি খাটিয়েছে বিজেপি সরকার। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাপিয়ার মন্তব্য, “যার কাজ করছেন না, পয়সা দিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করব। টলিউডে এসআইআর হবে। অনেক অযোগ্য মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়েছিলেন। কীভাবে আমরা টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাব সেটাই বর্তমানে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়। যারা এতদিন ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণ করে আসছেন, এমনকী আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন, কাজ দেননি তারা প্লিজ নিজেরাই সরে যান। এখানে আপনাদের কোনও জায়গা হবে না। ‘ডি কিউব’-এ তো মাত্র ক’জনের নাম বলেছি। এরকম বহু নাম জমা পড়েছে আমার কাছে।”
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কেন এসআইআর? বুধসকালে বৈঠকের পর পাপিয়া অধিকারী জানালেন, “বহিরাগতরা এসে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির উপার্জন নষ্ট করেছেন। সেকারণেই টলিউডে এসআইআর হবে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, আমরা নিজেরা তাদের চিহ্নিতকরণ করেছি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যেসব কাগজ জমা পড়েছে, সেগুলি এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের হাতে তুলে দিইনি। তাই বলব, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেরাই সরে যান।” তাহলে কি অভিনেত্রী-বিধায়কের ভরসায় শেষমেশ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ভয়মুক্ত হল টলিউড?