অভিষেকের সম্পত্তি-মামলা: কর্পোরেশনকে নিয়ম মেনে ফের নোটিশের নির্দেশ হাইকোর্টের
eTV Bharat | ০৪ জুন ২০২৬
কলকাতা, 3 জুন: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার ও কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্স। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বেআইনি অংশ এবং তাঁর কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্সের সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের দেওয়া নোটিশ অসম্পূর্ণ৷ পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে নোটিশে৷
সেই জন্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র বেঞ্চ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ দিতে কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছে৷ স্পিড পোস্টে পাঠাতে হবে সেই নোটিশ৷ সেখানে উল্লেখ করতে হবে এই তৃণমূল সাংসদের বাড়ির বা সম্পত্তির কোন অংশ অবৈধ৷
এই নোটিশ পাওয়ার পর পুরনিগমকে উত্তর দেওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিন সপ্তাহ সময় পাবেন৷ এমনটাই জানিয়েছেন বিচারপতি স্মিতা দাস দে৷ বিচারপতি আরও জানান, পুর কমিশনার দুই পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। চার সপ্তাহ পরে রেগুলার বেঞ্চে হবে এই মামলার শুনানি হবে বলে আদালতে জানাবেন।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি স্মিতা দাস দে কর্পোরেশনকে প্রশ্ন করেন, 18 মে পুরনিগম নোটিশ দিয়েছে। 25 মে আবেদনকারীরা তার রিপ্লাই দেয়। তাদের জবাবি চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত নথিগুলি নেই।
আজ 3 জুন কেন এখনও পর্যন্ত সেই রিপ্লাই-এর উত্তর দিল না পুরনিগম? ওই বাড়ির কোন অংশ অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথি নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত নেই কেন?
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্স মোট ন’টি মামলা দায়ের করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের গ্রীষ্মাবকাশকালীন বেঞ্চে। এদিন সেই মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের তরফে আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন কিশোর দত্ত৷ তিনি আদালতে বলেন, ‘‘বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটা বাড়িতে ছ’টা নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 401 ধারায় বেআইনি অংশ ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’’
কর্পোরেশনের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘পুর বিষয়টি কমিশনারের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে। এখনও ভাঙার নির্দেশ দেননি কমিশনার।’’ বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনি মালিককে কি নোটিশ দিয়েছেন? ভাঙার আগে খতিয়ে দেখার নোটিশ দিয়েছেন?’’
তখন কলকাতা পুরনিগমের আইনজীবী বলেন, ‘‘এখন শোকজ করা হয়েছে। ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। 401 ধারায় শোকজ করা হয়েছে। আজকের তারিখ পর্যন্ত কোনও ভাঙার নির্দেশ নেই। তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। তারা সেটার উত্তর দেবে।’’
বিচারপতি স্মিতা দাস দে বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী আগে আপনাকে মালিককে নোটিশ দিতে হয়। দিতে না পারলে অন্তত একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তখন নোটিশ সাঁটানো যায়। নোটিশ দেওয়া হলেও অসম্পূর্ণ। কারণ, পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। আপনারা নোটিশ জমির মালিককে পাঠিয়েছিলেন, তার প্রমাণ কই?’’ আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, ‘‘এটা শোকজ নোটিশ, পাশাপাশি বাড়ি ভাঙারও নোটিশ।’’
বিচারপতি তখন বলেন, ‘‘বাড়ির কোন অংশ অবৈধ সেটা নোটিশে উল্লেখ করেছেন? অস্পষ্ট নোটিশ দিলেই হবে না। আপনি একটা নোটিশ দিয়েছেন কিসের ভিত্তিতে?’’ কর্পোরেশনের আইনজীবীর উত্তর, ‘‘এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হোক।আমরা সেটা পুরনিগম থেকে নিয়ে দেব আদালতে।’’ তখন বিচারপতি নির্দেশ দেন, ‘‘আপনারা আগে পুরনিগমের নথি আবেদনকারী বাড়ির মালিককে দিন। তারপর এই মামলার শুনানি করা হবে।’’