কৃষ্ণনগর , 3 জুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বড়সড় দুর্নীতির হদিশ মিলল কৃষ্ণনগর-2 নম্বর ব্লকে ৷ যেখানে লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় 173 জন পুরুষের নাম পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় বিডিও দফতরের কর্মী ভোলা শীল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ৷ ইতিমধ্যেই, তাঁদের চিহ্নিত করে উপভোক্তা তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কৃষ্ণনগর-2 নম্বর ব্লকের বিডিও ৷
জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অ্যাকাউন্টগুলিকে অন্নপূর্ণা যোজনায় বদলের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ৷ আর সেই প্রক্রিয়াতেই সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য ৷ অভিযোগ উঠেছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় অসংখ্য পুরুষের নাম রয়েছে ৷ জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর-2 নম্বর ব্লক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিধানসভা এলাকায় 173 জন পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন ৷
জানা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই নামগুলি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকাও পাঠানো হয়েছে ৷ এ নিয়ে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এই কাজ করেছেন বিডিও দফতরের কর্মী ভোলা শীল ৷ প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিডিও দফতরের ওই কর্মীকে ইতিমধ্যেই শোকজ করা হয়েছে ৷ অভিযোগ উঠেছে ভোলা শীল বিডিও দফতরে চাকরি করার পর থেকেই তাঁর সম্পত্তি রাতারাতি বেড়ে গেছে ৷
নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি বলেন, "ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং শতাধিক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে ৷ আমরা প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি ৷ দোষীদের চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলার রুজু করা হবে ৷"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভোলা শীলের মা মঞ্জু শীল বলেন, "আমার ছেলে কোনওভাবেই এই ঘটনায় জড়িত নয় ৷ কেউ এই কাজ করে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ৷ আমার ছেলের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢুকত না ৷"
প্রতিবেশী সঞ্জীব হালদার বলেন, "ওঁ কিছুদিন আগে বিডিও দফতরে চাকরি শুরু করেছে ৷ তাহলে রাতারাতি এত টাকা কোথা থেকে এল ? একজন কর্মী বিডি অফিসে চাকরি করে কত টাকা মাইনা পেতে পারেন ? তাঁর নিজের বাড়ি-গাড়ি হয়ে গেল ৷ এমনকি শ্বশুরবাড়িতেও বাড়ি-গাড়ি হয়ে গেল রাতারাতি ! নিশ্চয়ই এর সঙ্গে কোনও কারচুপির যোগ রয়েছে ৷"
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি রঞ্জন অধিকারী বলেন, "শুধুমাত্র এই ঘটনা নয়, তৃণমূল কয়লা, মাটি সব বিক্রি করে খেয়েছে ৷ ভোলা শীল তো শুধুমাত্র বিডিও দফতরের একজন কর্মী ৷ ওঁ শুধু একা এর সঙ্গে যুক্ত নয় ৷ এর থেকে উচ্চতর আধিকারিকরাও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৷ পাশাপাশি, তৃণমূল নেতৃত্ব এই টাকার ভাগ পেয়েছে ৷ আমরা ইতিমধ্যেই তদন্ত করতে বলেছি, যাতে এর মূল মাথাগুলো ধরা হয় ৷ আর যাঁরা টাকা খেয়েছে, তাঁরা হজম করতে পারবে না ৷ টাকা ফেরত দিতে হবে এবং জেলও খাটতে হবে ৷"