বুদ্ধদেব বসুর কালজয়ী নাটক অবলম্বনে তৈরি কাব্যনাট্য ‘প্রথম পার্থ’। এ বার এই কাব্যনাট্য পাড়ি দিচ্ছে বিলেতে। সেই নিয়ে আলাপচারিতায় অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। কথা বললেন অঙ্কিতা দাশ
সম্প্রতি শহরের জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁয় হয়ে গেল ‘লন্ডন মহোৎসব’-এর সূচনা। ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলির সত্তাভিস পাটিদার সেন্টার-এ আগামী ২৭ এবং ২৮ জুন, দুই দিন ধরে চলবে এই মহোৎসব। যেখানে শ্রুতিনাটক পরিবেশন করবেন অঞ্জনা বসু। তবে শুধু অঞ্জনা নন, এই দলে রয়েছেন রায়া ভট্টাচার্য, দেবশঙ্কর হালদার, কৌশিক সেন-সহ আরও অনেকে।
বহু বছর আগেও একবার লন্ডনে ‘প্রথম পার্থ’ পরিবেশিত হয়েছিল। তাই সাহেবপাড়ায় আবারও বাঙালিয়ানা দেখাতে উদগ্রীব সকলে। অঞ্জনা বলেন, ‘বিদেশে দ্বিতীয়বার হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা বহুবার এই শ্রুতিনাটক মঞ্চস্থ করেছি। হিসেব মতো এটা আমাদের ১৪তম শো। একবার তো রাঁচিতে খোলা মাঠেও এই কাব্যনাট্য মঞ্চস্থ করতে হয়েছিল। দর্শকের এত ভালোবাসা পেয়েছিলাম যে বলার কথা নয়।’
‘প্রথম পার্থ’ কাব্যনাট্যে ‘দ্রৌপদী’র চরিত্রে অভিনয় করেন অঞ্জনা বসু। তাঁর কথায়, ‘অনেক বছর পরে আবার বিলেতে ‘প্রথম পার্থ’ শোনাতে যাব। সে জন্য খুবই উত্তেজিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এ বার আর বেশি দিনের জন্য যাওয়া হচ্ছে না। মাত্র তিনদিনের জন্য লন্ডনে যাব। আসলে এখানেও তো নানা ব্যস্ততা রয়েছে।’ বাংলায় সবেমাত্র পথচলা শুরু করেছে নতুন সরকার। বর্তমান শাসক দলের ‘আদি’ নেত্রী বলে অঞ্জনার খ্যাতি রয়েছে। ধীরে-ধীরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল এসেছে। সমীকরণ বদলেছে টলিপাড়াতেও।
বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন দলে দলে ভিড়েছেন প্রাক্তন শাসকদলে, সেই আবহেও স্রোতের বিপরীতে হেঁটে তিনি টলিপাড়ায় অন্যতম প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছেন। তা নজরে রেখেই একুশের বিধানসভা ভোটে তাঁকে সোনারপুর দক্ষিণে প্রার্থী করেছিল দল। যদিও তিনি হেরে যান। কিন্তু আনুগত্য বদলায়নি। একই রকম ভাবে সরব থেকেছেন। তার পর রাজ্য রাজনীতিতে অনেক জল গড়িয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে পালাবদল হয়েছে। কিন্তু এই সুসময়ে কি রাজনীতি থেকে নিজেকে কিঞ্চিৎ দূরে সরিয়ে রেখেছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অঞ্জনা বসু?
অঞ্জনার বক্তব্য, একেবারেই না। তাঁর কথায়, তিনি আগের মতোই রাজনীতিতে সক্রিয়। তবে এই মুহূর্তে যদিও তিনি খানিক ব্যস্ত ‘কুসুম’ ধারাবাহিকের শুটিং নিয়ে। তবে এ সবের মধ্যেও রাজ্যের নতুন সরকারের কাজের দিকে নজর রয়েছে অঞ্জনার। শুধু তা-ই নয়, বর্তমান সরকারের তরফে যদি তাঁকে ভবিষ্যতে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে জানালেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি ১৪ বছর ধরে এই দলে রয়েছি। আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবেন না আমি দলের কারও কাছে কিছু চেয়েছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি তার ১০০ শতাংশ পালন করেছি। ভবিষ্যতেও তা-ই করব।’
পালাবদলের পরে টালিগঞ্জকে রাজনীতিমুক্ত করা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির দুই বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। আগের সরকারের আমলে টলিউডে বহু কলাকুশলী ‘ব্যান’ সংস্কৃতির কোপে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই জায়গা থেকে নতুন সরকার কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন, সে দিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। অঞ্জনারও মত, অভিনয় জগতে রাজনীতির রং না লাগাই ভালো। সেখানে শুধু শিল্পই কথা বলবে। তিনি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চান।