• অতিরিক্ত ফলনে মাথায় হাত, মালদহের বাজারে এখন ২ টাকা কেজি ভেন্ডি
    News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
  • মালদহ, জিএম মোমিন: সাধারণত ফলন কম হলে বাজারে দাম বাড়ে। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে মালদহে। ভেন্ডির বাম্পার ফলনের জেরে বাজারে ধস নেমেছে দামে। যে ভেন্ডি মরশুমের শুরুতে পাইকারি বাজারে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে সেই ভেন্ডিই বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন চাষিরা।

    মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম অঞ্চলের মাদাপুর এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে ভেন্ডি চাষ হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে এই সবজির চাষ করা হয়েছে। মরশুমের শুরুতে ভাল দাম পাওয়ার আশায় বহু কৃষক কয়েক বিঘা থেকে শুরু করে ১০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে ভেন্ডি চাষ করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন দাম কার্যত তলানিতে ঠেকেছে।

    ভেন্ডি চাষি ঘনশ্যাম মণ্ডল জানান, “লাভের আশায় প্রায় দুই বিঘা জমিতে ভেন্ডি চাষ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে পাইকাররা ১০ টাকার বেশি দামে কিনতে চাইছেন না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে ২ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    এদিকে কৃষকদের এই সমস্যার প্রসঙ্গে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দূষ্যান্ত কুমার রাঘব বলেন, “মালদহে কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন অনেক সময় চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যায়। ফলে বাজারে দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই একই ফসলের উপর নির্ভর না করে পরিকল্পিত ও বিকল্প চাষের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।”

    অতিরিক্ত ফলনের আনন্দ যে কখনও কখনও চাষিদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে, মালদহের ভেন্ডি চাষিদের বর্তমান পরিস্থিতিই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তবে এক‌ই সঙ্গে কৃষি বিজ্ঞানীদের বিকল্প চাষের পদ্ধতির পরামর্শ নতুনভাবে দিশা দেখাচ্ছে জেলার চাষিদের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)