• মন্দিরের ১ কিমির মধ্যে দোকান, বাতিল হতে পারে তারাপীঠের একাধিক মদের দোকানের লাইসেন্স
    News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
  • বীরভূম, সৌভিক রায়: দিন কয়েক আগেই রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, বিপুল পরিমাণ সিট পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এরপরেই বড় ঘোষণা করেছে রাজ্যে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন মন্দির, স্কুল, কলেজ-সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে না কোনও ধরনের মদের দোকান, যা নিয়ে তারাপীঠে মদ ব্যবসায়ীদের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাধক বামদেবের তারাপীঠ।

    প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে যাওয়া আসা করেন। বিশেষ বিশেষ তিথিতে সেই সংখ্যা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। আর জেলার মধ্যে মদ বিক্রিতে সেরা বামাক্ষ্যাপার এই তীর্থভূমি। বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখানে ‘মদের বেচাকেনা হয় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার কাছাকাছি। কৌশিকী অমাবস্যার সময় অঙ্কের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬-৭ কোটি। সেই সময় সারারাত মদের দোকান খুলে রাখা হয়।

    তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, তারাপীঠ যাবার পথে রামপুরহাটের মনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠের বেসিক মোড় পর্যন্ত প্রায় ২৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান রয়েছে। দু’তিনটে বাদ দিলে অধিকাংশ দোকানই তারাপীঠে। কয়েকমিনিট পর পরই মদের দোকান। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান মন্দিরের খুব কাছাকাছি এলাকায়। অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বহু ব্যবসায়ী বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে লাইসেন্স নিয়েছেন।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা এবং এই নিয়ম কার্যকর হলে এই দোকানগুলি হয় বন্ধ করে দিতে হবে অথবা লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে কিংবা দোকানগুলির একটি বিশাল অংশকে বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নতুন পরিকাঠামো তৈরি, দোকান ঘর ভাড়া বা কেনা এবং পুরনো জায়গা ছাড়ার কারণে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানাচ্ছেন মদ ব্যবসায়ীদের একাংশ।

    আগে নিয়ম ছিল, শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ফুট ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। তবে এক কিলোমিটারের এই নতুন নির্দেশিকা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত কঠোর এবং বড়ো পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন পর্যটকেরা। যদিও এই ব্যাপারে জেলা আবগারি সুপারিনটেনডেন্ট অর্ণব দে জানান “এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও ধরনের নির্দেশিকা জারি হয়নি। নোটিফিকেশেন বের হলে তবেই কার্যকর হবে।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)