• মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস, ফেসবুকে কটাক্ষ শতদ্রুর
    এই সময় | ০৪ জুন ২০২৬
  • মেসি কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তার পরেই অরূপকে তলব করে পুলিশ। তাঁকে ৫ জুন দুপুর ১২টার হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আরও ২ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন শতদ্রুও।

    সূত্রের খবর, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অরূপ বিশ্বাস। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই মুহূর্তে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এই আর্জির কথা সামনে আসতেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ মেসির ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু। সোশ্যাল মিডিয়ায় অরূপ বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন—মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না।’ সমন আসতেই অরূপ বিশ্বাসের অসুস্থ হয়ে পড়াকে নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ তিনি। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘মন্ত্রীমশাই, অনেক কষ্ট দিয়েছেন আমায়। ছাড়ব না।’

    গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছিলেন শতদ্রু দত্ত। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির ৩(৫)/ ৩০৮ (২)/ ৩১৮(৪)/৩৫১(২)/৬১(২) ধারা অর্থাৎ টিকিটে কালোবাজারি, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন মেসি ইভেন্টের আয়োজক। তাঁর দাবি, মেসি ইভেন্টের জন্য প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। একইসঙ্গে ত্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে গ্লোবাল ফুটবল আইকন মেসির গায়েও হাত দেন তিনি বলেও অভিযোগ করেছেন শতদ্রু।

    ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের শেষে। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসিকে নিয়ে এসেছিলেন শতদ্রু। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীই মাঠে সারাক্ষণ মেসিকে ঘিরে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। হতাশ দর্শকদের একাংশ ভাঙচুর শুরু করেন স্টেডিয়ামে। অনুষ্ঠান বাতিল করে দিতে বাধ্য হন আয়োজকরা। ঘটনার পরেই শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩৭ দিন পরে জামিন পান তিনি। তার পরেই ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রাজ্যে পালাবদলের পরে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর জন্যই গোটা অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডের পরে অরূপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল রাজ্যের প্রায় সব মহল থেকেই। চাপের মুখে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।

  • Link to this news (এই সময়)