তৃণমূলের জমানায় থানায় দিয়ে শাসক দলের নেতারা তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। তৃণমূলের হামলার হাত থেকে বাঁচতে টেবিলের তলায় লুকিয়ে ছিলেন এক পুলিশ কর্মী। তা নিয়ে জোর চর্চা হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদল হতেই পুলিশের ভয়ে খাটের নীচে লুকিয়ে থাকতে দেখা গেল এক তৃণমূল নেতাকে। আর এই ঘটনার সাক্ষী থাকলেন রাজ্যবাসী।অভিযোগ, আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার বদলে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছেন ওই নেতা। রাজ্যে পালাবদলের পরেই এ নিয়ে সরব হন এলাকার লোকেরা। তৃণমূলের আমলে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো ওই নেতা এই ক্ষোভে এতটাই ভয় পেয়ে যান, রোষের হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেন বাড়ির খাটের নীচে। পরে সেই খাটের নীচে থেকেই মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায়। মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা।
বুধবার ১৩১ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য বিউটি বিবির স্বামী শহিদুল মিঞা জনরোষ থেকে বাঁচতে খাটের নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শেষে সেখান থেকেই মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে বের করে নিয়ে যায় থানায়। আটক করা হয়েছে তাঁকে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে দু’হাতে কাটমানি নিয়েছেন শহিদুল। কোনও কাজই করেননি।
এলাকা সূত্রে খবর, শহিদুল সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন। যদিও একটা সময়ে তাঁকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতাও। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে এলাকা থেকে টাকা তুলতেন তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলে নিজের প্রভাব খাটিয়ে লোকজনকে চুপ করিয়ে দিতেন। সে সময়ে লোকজন কিছু বলার সাহস দেখাননি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে পথে নেমে প্রতিবাদ করেন তাঁরা। এর পরেই এই ঘটনা।