উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার জনপ্রিয় দয়ারা বুগিয়াল ট্রেক রুটে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তরুণীর ছয় দিন পরেও হদিশ মেলেনি। ২৪ বছরের MBA ছাত্রী ববিতা পান্ডের নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। এ দিকে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে ট্রেকে যাওয়া দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ববিতার খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বন দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ববিতা একটি ট্রেকিং দলের সঙ্গে দয়ারা বুগিয়াল অভিযানে গিয়েছিলেন। গত ২৯ মে রাতে ট্রেক চলাকালীন গই (Goi) ক্যাম্পসাইট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। শেষবার সিসিটিভি-তেও তাঁকে গই ক্যাম্পসাইটেই দেখা যায়। এর পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বাকিদের।
নৈনিতালের বাসিন্দা ববিতার সঙ্গে ট্রেকে যাওয়া দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে তরুণীর পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হরমনপ্রীত ও হরমনপাল নামে দুই সহযাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁদের বয়ানে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে পুলিশ সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। দুর্ঘটনা, বন্যপ্রাণীর হামলা, কিংবা কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রশাসনের দাবি, ববিতা ও তাঁর দুই সঙ্গীর নামে মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেকিং পারমিট পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, পুরোনো পারমিটে নতুন নাম সাঁটিয়ে তা ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন, পরিবেশ ফি এবং অন্য সীমাবদ্ধতা এড়ানো যায়। এই ঘটনার জেরে উত্তরকাশীতে জাল ট্রেকিং পারমিট চক্রের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের মতে, ববিতার নিখোঁজ হওয়া শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই তদন্তকারীরা ট্রেক রুটের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন।
জানা গিয়েছে, ২৫ মে ববিতা তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমে দেরাদুনে পৌঁছন এবং পরে হরশিল, গঙ্গোত্রী-সহ একাধিক পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেন। ২৮ মে তাঁরা রাইথাল গ্রামে পৌঁছে রাত কাটান। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজেই শেষবার ববিতাকে দেখা গিয়েছে।
২৯ মে, তিনজন রাইথাল থেকে দয়ারা বুগিয়ালের উদ্দেশে ট্রেক শুরু করেন এবং রাতে গই (Goi/Ghoi) বেস ক্যাম্পে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে হঠাৎ করেই ববিতা নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরেই বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে সেনাবাহিনী, আইটিবিপি (ITBP), এসডিআরএফ (SDRF), এনডিআরএফ (NDRF), পুলিশ, বন দপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য-সহ প্রায় ১৫০ জনের একটি দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোন, স্নিফার ডগ, বিশেষ পর্বতারোহী দল এবং ডাইভিং টিমকেও কাজে লাগানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। উত্তরকাশী পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনা উত্তরাখণ্ডের জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যটক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং ট্রেকিং পারমিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।