• লাভকেশ বাজাজ কে? ৬ ঘরের B&B-কে ২৫ রুমের হোটেলে পরিণত করেন তিনি? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা
    এই সময় | ০৪ জুন ২০২৬
  • দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার কারণ খুঁজতে চলছে তদন্ত। কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্ন এখন ঘুরছে একটি নামকে ঘিরে— লাভকেশ বাজাজ।

    কী ভাবে তাঁর বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (B&B) ব্যবসা মাত্র ৬টি অনুমোদিত ঘর থেকে ২৫ ঘরের হোটেলে পরিণত হল? আর সেই রূপান্তরের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ২১ জনের মৃত্যুর কারণ? তদন্তকারীরা এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লাভকেশ বাজাজ দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ় রানি এলাকায় অবস্থিত Flourish Stay B&B-র মালিক। বুধবার সকালে এই হোটেলেই ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।  

    আগুন লাগার পরে বাজাজকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়। দিল্লি পুলিশ প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চালায়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

    তদন্তে বাজাজ দাবি করেছেন, হোটেলের দৈনন্দিন পরিচালনা তিনি করতেন না। তাঁর বক্তব্য, অন্য একজন ব্যক্তি কার্যত ব্যবসাটি পরিচালনা করছিলেন। তবে সেই দাবি এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    এই মামলার সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে হোটেলের অনুমোদন সংক্রান্ত নথি থেকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দিল্লি সরকারের B&B নীতির আওতায় এই সম্পত্তির অনুমতি ছিল মাত্র ৬টি ঘরের জন্য। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রায় ২৫টি ঘর চালানো হচ্ছিল। শুধু উপরের তলাগুলিই নয়, বেসমেন্টেও অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অর্থাৎ অনুমোদিত ক্ষমতার প্রায় চার গুণ বেশি পরিসরে ব্যবসা চলছিল।  

    তদন্তে উঠে এসেছে, ভবনের একাধিক অংশে বেআইনি নির্মাণ হয়েছিল। অতিরিক্ত ফ্লোর তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই এই পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে একের পর এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি।

    হোটেলটিতে কার্যত একটি মাত্র প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ ছিল। অনেক জানালা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ছাদে ওঠার পথও কার্যকর ছিল না বলে অভিযোগ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরে অতিথিদের বেরোনোর কোনও বিকল্প রাস্তা প্রায় ছিলই না।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হোটেলের বৈধ ফায়ার NOC ছিল না বলেই দাবি তদন্তকারীদের। আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগও উঠেছে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হোটেলটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ বিবেক নারায়ণ শর্মা টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে অনুমোদনের বহু বাইরে গিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল, বৈধ ফায়ার ক্লিয়ারেন্স ছিল না এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাহলে বিষয়টি শুধুমাত্র অবহেলা হিসেবে দেখা হবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে 'culpable homicide' বা মৃত্যুর জন্য দায়ী গুরুতর অপরাধের অভিযোগও টেকসই হতে পারে।

    তদন্তকারীরা বর্তমানে ওই বিল্ডিংয়ের অনুমোদনপত্র, ফায়ার NOC, লাইসেন্স, পরিদর্শন রিপোর্ট এবং অতীতে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনিক স্তরে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেটাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    একটি ছোট B&B কী ভাবে ২৫ ঘরের হোটেলে পরিণত হলো? বছরের পর বছর তা নজরদারির বাইরে রইল কী ভাবে? এর জেরেই তৈরি হয়েছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ? এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে দিল্লি পুলিশ।

    ২১ জনের মৃত্যু শুধু একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয়। এটি নিয়মভঙ্গ, নিরাপত্তা গাফিলতি এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।   

    প্রশ্ন: লাভকেশ বাজাজ কে?

    উত্তর: দিল্লির মালব্য নগরের Flourish Stay B&B-র মালিক হিসেবে লাভকেশ বাজাজের নাম সামনে এসেছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    প্রশ্ন: হোটেলটির জন্য কত ঘরের অনুমতি ছিল?

    উত্তর: তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লি সরকারের B&B নীতির আওতায় হোটেলটির মাত্র ৬টি ঘরের অনুমতি ছিল।

    প্রশ্ন: বাস্তবে কত ঘর চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ?

    উত্তর: পুলিশ সূত্রে দাবি, অনুমোদিত ৬ ঘরের বদলে প্রায় ২৫টি ঘর পরিচালনা করা হচ্ছিল। বেসমেন্টেও অতিথি রাখার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: দিল্লি হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কত জনের মৃত্যু হয়েছে?

    উত্তর: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)