পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি রুখতে রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে সব পঞ্চায়েত কর্মী তিন বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত, তাঁদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে। বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, তিন বছর বদলি না-হওয়া পঞ্চায়েত কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ১১০০। চলতি জুন মাসেই তাঁদের বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব গ্রাম পঞ্চায়েতে এ বার নিয়মিত অডিটও হবে বলে জানিয়েছেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘এত দিন অডিট অনিয়মিত ছিল। এ বার তা সময়ে সময়ে হবে।’
পঞ্চায়েত স্তরে নিয়োগ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন দিলীপ। জানিয়েছেন, রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে ১১,১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। তার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা বা মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি। আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬,৫৩৬টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। মন্ত্রী জানান, নিয়ম মেনে পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে।
দিলীপ জানিয়েছেন, কেন্দ্রের সমস্ত গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পই এ রাজ্যে কার্যকর করা হয়েছে। কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থও আসতে শুরু করেছে। গ্রামবাংলায় ২৭৯০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্র। তার জন্য প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। দিলীপ জানান, জুন পর্যন্ত রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ, মনরেগা প্রকল্প চালু থাকে। তার পর জুলাই থেকে শুরু হবে ১২৫ দিনের কাজ বা জিরাম-জি প্রকল্প। এর জন্য বার্ষিক ১২,৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়াও ১ লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলা হবে রাজ্যে। প্রতিটি গোষ্ঠী পিছু সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।
দুর্নীতি রুখতে দিশা কমিটির বৈঠকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিলীপ। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ঠিকঠাক কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখার জন্য এই কমিটির গড়ার কথা কেন্দ্রীয়ই বলেছিল। দিলীপ বলেন, ‘এই কমিটির মাথায় সাংসদেরা থাকেন। আমিও এমপি ছিলাম। কিন্তু কোনও দিন ডাকা হয়নি। জেলাশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমন্বয় করেই উন্নয়নের কাজ হয়।’