আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি তাতে সম্মতি জানিয়েছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করলেন বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কমিশনারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছেও চিঠির একটি কপি পাঠানো হয়েছে।
ইস্তফা দেওয়ার পরে কৃষ্ণা বলেন, “আমি অনেক ছোট থেকে মানুষের কাজ করি। আমি ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছি। যা যা নিয়ম মেনে ইস্তফা দিতে হয়, ঠিক সেভাবেই দিয়েছি। সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
বুধবার আচমকা রটে যায় যে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। যদিও তিনি নিজে সে কথা স্বীকার করেননি। পরে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে জানান যে, ইস্তফার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে ফিরহাদ। মমতা সম্মতি জানিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই ছন্নছাড়া দশা তৃণমূলের। একের পর এক কাউন্সিলর থেকে বরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। বিধায়করা একের পর এক সরে দাঁড়িয়েছেন মমতার পাশ থেকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়েছে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি। পায়ের তলার জমি ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন মমতা।
২০১৯ সাল থেকে বিধাননগরের মেয়র পদে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা। ২০১৫ সালে বিধাননগর পুরসভা পুরনিগমে উন্নীত হওয়ার পরে প্রথম মেয়র হন সব্যসাচী দত্ত। ২০১৯-এ তিনি মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে চলে যান। সে বছরই মেয়র হিসেবে নিযুক্ত হন কৃষ্ণা। তার আগে তিনি ছিলেন পুরবোর্ডের চেয়ারপার্সন। ২০২০ সালে বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরে দু’বছর প্রশাসক হিসেবে কাজ চালান কৃষ্ণা। ২০২২ সালে ফের বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র নির্বাচিত হন কৃষ্ণা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা কৃষ্ণা বেশ কয়েক দশক ধরেই মমতার ঘনিষ্ঠ। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত তিনি। রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা এবং নিউটাউনকে সল্টলেকের সঙ্গে জুড়ে পুরনিগম গঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যে পুরসভা সল্টলেকের নাগরিক পরিষেবার দায়িত্বে ছিল, সেই বিধাননগর পুরসভার প্রধান ছিলেন কৃষ্ণা।