নিরাপত্তা চেয়ে শুভেন্দু ও আদালতের দ্বারস্থ হুমায়ুন
আজকাল | ০৪ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা নওদা বিধানসভার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বর্তমানে রাজ্যের অন্যান্য বিধায়কদের মতোই তাঁর নিরাপত্তায় দু'জন রাজ্য পুলিশের পিএসও মোতায়েন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন তিনি।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুমায়ুনের আবেদনের ভিত্তিতে ৪ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর জন্য ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ করেছিল। সেদিন থেকেই রাজ্য সরকার হুমায়ুনের জন্য বরাদ্দ দু'জন সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষীকে তুলে নেয়। এতদিন হুমায়ূনের জন্য সিআইএসএফ-এর তরফ থেকে একজন ইন্সপেক্টর, দু'জন সাব ইন্সপেক্টর এবং ১০ জন জওয়ান মোতায়েন ছিলেন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে আজ সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষীরা নিজেদের জিনিস নিয়ে হুমায়ুনের বাড়ি ছেড়েছেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কেবল দু'জন পিএসও রয়েছেন।
হুমায়ুন বলেন, “আমি একজন বিধায়ক এবং একটি আঞ্চলিক দলের চেয়ারম্যান। রাজ্য সরকারের তরফে আমার সুরক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-র তরফ থেকেও আমাকে জানানো হয়েছে যে আমার 'লাইফ থ্রেট' রয়েছে। এমনকী মুর্শিদাবাদে বিধানসভা নির্বাচনের দিন নওদা এলাকায় আমার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা না থাকলে আমার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।”
পাশাপাশি বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তাঁর অবস্থানের জন্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত হুমকি আসছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু দু'জন পুলিশকর্মী দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
হুমায়ুন কবীর আরও জানান, গত জানুয়ারি মাসেই তিনি বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ সেই আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে চিঠি লিখতে বলেন। তারপরই কেন্দ্রের তরফে তাঁকে ‘ওয়াই’ প্লাস ক্যাটাগরি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কিন্তু ১ জুন থেকে কোনও অজ্ঞাত কারণে নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি ফের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। হুমায়ুন কবীর বলেন “আমি আজই কলকাতায় যাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করব। তখন আমি তাঁকে আমার নিরাপত্তার বিষয়টি মানবিকভাবে পর্যালোচনা করার জন্য আবেদন জানাব।"
হুমায়ূনের দাবি, তাঁর সঙ্গে কমপক্ষে ৪ জন পিএসও থাকুক এবং তিনি যেখানেই যাবেন একটি এসকর্ট গাড়ি থাকবে। নওদার বিধায়ক আরও বলেন, "যদি অধীর চৌধুরী এবং নওশাদ সিদ্দিকী এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা পেয়ে থাকেন তাহলে আমার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হলো কেন? রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়করা যে সুরক্ষা পাচ্ছেন আমিও সেই সুরক্ষা পাচ্ছি। কিন্তু অনেক বিধায়কের থেকে আমার প্রাণহানির শঙ্কা বেশি। আমি ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপারকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি এবং বাড়িতে 'হাউস গার্ড' চেয়ে আবেদনও করেছি।"
একইসঙ্গে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যেহেতু আগেও আদালতের নির্দেশে আমি নিরাপত্তা পেয়েছিলাম, তাই এবারও আদালতের কাছে পুনরায় নিরাপত্তা বহাল রাখার আবেদন জানাব।
বুধবার আমার এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে স্পীডপোস্টে বা ই-মেল করে চিঠি পাঠাতে পারিনি। আজ আমি সেই চিঠি পাঠাচ্ছি। এর পাশাপাশি আমার আইনজীবিরাও আগামিকালের মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।” তবে রাজ্য সরকার ও আদালত এবার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।