আন্তর্জাতিক মেলা হবে গঙ্গাসাগরে, কলকাতায় আরও ৪৪টি জেটি; ঘোষণা শুভেন্দুর
আজ তক | ০৪ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও। সেখানে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাংবাদিক বৈঠকে একে একে তা জানিয়ে দেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সাগরমালা ২ প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রফতানি ব্যবসার জন্য যা যা অবকাঠামো ও পরিকাঠামো প্রয়োজন। সেগুলি তৈরি হবে এই কেন্দ্রীর প্রকল্পের অধীনে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা আমরা প্রস্তুত করব। পাঁচ বছরের জন্য ২২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তাতে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূল অঞ্চলে মাছ ধরার পরিকাঠামো, সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশার সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের কষ্ট দূর করতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, কলকাতা ‘ওয়াটার মেট্রো’র সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। বর্তমানে দেশে ১৭টি জায়গায় ওয়াটার মেট্রো রয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের উদ্যোগে কলকাতা হতে চলেছে ১৮তম। শহর ও শহরতলি নিয়েও ভাবনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া, কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতির স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সবরকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
কলকাতার সঙ্গে শহরতলির যোগাযোগ নিয়ে শুভেন্দু-
পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কপিলমুনির আশ্রমের সংলগ্ন সৈকতের পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা বন্দর এলাকায় জমি দখল, বেআইনি কাজকর্ম রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে একটি মিউজ়িয়াম বানানোরও চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেখানে পুরোনো কলকাতার ইতিহাস তুলে ধরা হবে। বর্তমানে রাজ্যে পরিবহণ ও শিপিং বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে। ভবিষ্যতে শিপিংকে আলাদা করার চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী উত্তরাখণ্ড ও ওডিশার ধাঁচে মাইনর পোর্ট বানানোর ভাবনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের।