তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের ভবিষ্যত্ নিয়ে শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন, তাজপুরে বন্দর গড়া সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে জমিই নেই।
তাজপুর বন্দরের টেন্ডার বাতিল করেছিলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা।
শুভেন্দু ও করণের বৈঠকে কী আলোচনা?
এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর। গতকাল অর্থাত্ বুধবার করণের সঙ্গে মিটিংয়ে যে তাজপুর বন্দর নিয়ে কথা হয়েছে, তা জানালেন শুভেন্দু। তাজপুর সমুদ্র বন্দরের জন্য রাজ্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত জমি নেই বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাজপুর থেকে ১০ কিমি দূরে ১৭০০ একর জমি নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগনো হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্য সরকারের হাতে তাজপুরে পর্যাপ্ত জমিই নেই
শুভেন্দুর কথায়, 'আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, গতকাল করণ আদানির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে। ওই প্রকল্প থেকে ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠী বেরিয়ে গিয়েছেন। আমরা দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়ে হাজার একর জমি না পেলে। ফাইনালি সরকারি পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।'
বস্তুত, আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ২০২২ সালে BGBS সামিটে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে তিনি বন্দর পরিকাঠামো, ডেটা সেন্টার, আন্ডারসি কেবল, ওয়্যারহাউস ও লজিস্টিক পার্ক সহ একাধিক প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন।