• তৃণমূলের হাতছাড়া বিধাননগর পুরনিগমও! ইস্তফা দিয়ে কেঁদে ফেললেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী
    প্রতিদিন | ০৪ জুন ২০২৬
  • বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। আজ, বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, এবার তাহলে কি বিধাননগর পুরনিগমও তৃণমূলের হাতছাড়া হচ্ছে? এ দিন ইস্তফা  দিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর গলা কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, “আমি মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। মানুষের হয়ে কাজ করেছি। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। কোনও ভুল হয়ে থাকলে…।” এই কথা বলেই কণ্ঠ অশ্রুরুদ্ধ হয়ে যায় তাঁর। 

    তৃণমূলের প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পরই রাজনৈতিক অবস্থা টলমলে। দলে মহাবিদ্রোহ। মমতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন। একাধিক এলাকায় তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগ। দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগে নেতাদের গ্রেপ্তার। এমনকী কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমও পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করায় তাতে নেত্রী মমতা সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই পরিস্থিতিতে বিধাননগরের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা।

    কৃষ্ণা চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী, ঘনিষ্ঠ। ১৬ বছর ধরে বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত। কখনও বরো চেয়ারম্যান ছিলেন। হয়েছেন মেয়রও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জনরোষ আছড়ে পড়লেও কৃষ্ণার বিরুদ্ধে তা দেখা যায়নি। ভালো ব্যবহার, দলমত নির্বিশেষে সকলের কথা শোনা। এলাকার উন্নয়ন করা কৃষ্ণা হঠাৎ কেন পদত্যাগ করলেন সেই প্রশ্ন রয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ ছেড়েছেন তিনি। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা পুরনিগমও তৃণমূলের ছাড়া হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এ দিন মেয়রের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। নিজের জন্য সময় দরকার। কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করব। বিধাননগরের মানুষের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ।” দল বা কারও প্রতি অভিমান রয়েছে কি না? জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “কারও প্রতি কোনও অভিমান নেই। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।” 
  • Link to this news (প্রতিদিন)