রান্নার গ্যাসের চড়া দামে পকেটে টান? গুডবাই জানিয়ে বাড়িতে আনুন এই ‘ওভেন’, ২ টাকাতেই হবে রান্না
News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
: রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের গলা টিপছে। আর তখনই বাঁকুড়ার উদ্ভাবক এমন একটি আইডিয়া নিয়ে এলেন, যে ‘এলপিজি গ্যাসকে’ ‘গুডবাই’ বলে দিচ্ছেন অনেকেই। ধানের তুষ-সহ বিভিন্ন কৃষিজ বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি তাদের ‘ব্লু গ্যাস ওভেন’ সম্প্রতি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের ‘IBR Achiever’ সম্মান অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতির ফলে শুধু সংস্থাই নয়, জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে বাঁকুড়ার উদ্ভাবনী শক্তিও।
সংস্থার কর্ণধার চঞ্চল সিংহ জানান, মাত্র ২০০ গ্রাম ধানের তুষ ব্যবহার করেই ১০ থেকে ১২ জনের এক বেলার রান্না করা সম্ভব। যার বাজারমূল্য মাত্র ২ টাকার কাছাকাছি। ফলে এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমান যেতে পারে বলে দাবি তাঁর। গৃহস্থালির পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখেও তৈরি হয়েছে ওভেনটির বিশেষ কমার্শিয়াল সংস্করণ। নির্মাতাদের দাবি, মাত্র ১০ টাকার তুষে প্রায় দু’ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বালানি পাওয়া যায়, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান কিংবা ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় এনে দিতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ওভেনটি বেশ উন্নত। এতে রয়েছে ইনবিল্ট ইলেকট্রিক বুস্ট ফ্যান, যা জ্বালানির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দ্রুত ও স্থিতিশীল শিখা তৈরি করে। ওভেনটি সরাসরি বিদ্যুৎ কিংবা ১২ ভোল্ট ব্যাটারি— দুই মাধ্যমেই চালান যায়। সংস্থার দাবি, ফ্যানটি প্রায় ২০০ ঘণ্টা চললেও বিদ্যুতের খরচ হয় মাত্র এক ইউনিটের কাছাকাছি।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত জ্বালানি মূলত কৃষিক্ষেত্রের ফেলে দেওয়া বর্জ্য। ফলে একদিকে যেমন জ্বালানির খরচ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাচ্ছে। সংস্থার দাবি, ওভেনটি সম্পূর্ণ ধোঁয়াহীন ও পরিবেশবান্ধব। কৃষিজ বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগকে গ্রামীণ উদ্ভাবনের এক সফল দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এলপিজির বিকল্প হিসেবে ধানের তুষ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তরই যেন নতুন করে সামনে এনে দিল বাঁকুড়ার এই ‘ব্লু গ্যাস’।